সিসিনিউজ: বাংলাদেশ টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ বোর্ডের (টিঅ্যান্ডটি) লাইনম্যান ও প্রকৌশল বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যোগসাজশে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূয়া ও ছদ্দনামে নগরীর মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ ও মিরপুরসহ ২১টি স্পটে ৭৭টি বাণিজ্যিক ফোন ব্যবহার করে টিএন্ডটির প্রায় ৫০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়।
২০০১ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর প্রধান কার্যালয়ে এই অভিযোগটি আসলেও দীর্ঘদিন তা ফাইল বন্দি ছিল। যার নথি নং- ২৪০-২০০১/মেট্রো/অ:বি:সেল-২/২৯৭৮।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বরে অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করা হলেও তার অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল বিষয়টি পূনরায় আমলে নিয়ে একজন সহকারী পরিচালককে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয় কমিশন।
কিন্তু এত আগের অভিযোগ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে জানান, এত আগের অভিযোগ হওয়ায় আমাকে তথ্য-প্রমাণ বের করতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। অভিযোগ হাতে পেয়েই টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষের নিকট সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু বেশ কিছুদিন পার হলেও কোন নথিপত্র পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘নথিপত্র হাতে পেলে বোঝা যাবে প্রকৃত ঘটনাটি কি ? তবে সমস্যা হলো, এই আত্মসাতের অভিযোগের সাথে টিএন্ডটির যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে তাদের অনেকেই অবসরে গেছেন কিংবা কেউ কেউ মারাও গেছেন। ফলে এত আগের বিষয় কতটুকু প্রমাণ করতে পারব তা নিয়ে আমি সন্দিহান।’
অভিযোগ রয়েছে, নগরীর মতিঝিল, ধানমন্ডি,লালবাগ ও মিরপুরসহ ২১টি ষ্পটে ভূয়া নামের ৭৭টি টেলিফোনের মাধ্যমে লুটপাট চালানো হয়। এ বিষয়ে ২০০১ সালে মতিঝিল, রমনা ও ধানমন্ডি থানায় কয়েকটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।
টিএন্ডটি বোর্ডের টেলিযোগাযোগের (দক্ষিন অঞ্চল) এক তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, ১৩৩/২ শান্তিবাগের ঠিকানায় জনৈক জাহাঙ্গীরের নামে ১৯৯৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ও ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারিতে ৯৩৪৯৪৮২ ও ৮৪২৮৮৭ নম্বরের দুটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। কিছুদিন পর তিনি আইএসডি লাইন সংযোগ করিয়ে নেন। কিন্তু এই টেলিফোন দুটি থেকে প্রায় ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪৫ টাকার বিল ফাঁকি দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষ লাইন দুটি সচল রাখে।
তদন্ত রির্পোট সূত্রে আরো জানা যায়, রাজ্জাক টাওয়ারের নজিবুল হক এই টেলিফোন দুটি ব্যবহার করে ভূয়া নামে আরও ৫টি টেলিফোন সংযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার নম্বর হলো- ৯৩৪০৬২৯, ৯৩৪৯২৭২, ৯৩৪৯৪৮৩, ৯৩৩৬৩১২ ও ৯৩৪৯২৮০। যদিও পরবর্তীতে অন্যদের কাছে এসব লাইন বিক্রি করে দেন তিনি।
টিএন্ডটি বোর্ডের কর্মচারী সোলায়মান হোসেনের সহায়তায় নজিবুল হক আরো ৬টি টেলিফোন দিয়ে একইভাবে ব্যবসা চালিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। নম্বরগুলো হলো- ৯৩৪৯৪৮২, ৮৩৪০৬২৯, ৯৩৪২৯৮০, ৯৩৩৬৩৯২, ৯৩৪৯২৭৯ ও ৯৩৪৯৪৮৩। এ বিষয়ে তখন মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ অর্থের বিনিময়ে উল্টো নজিবুলের পক্ষে রিপোর্ট দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া টিএন্ডটির নূরুল ইসলাম চৌধুরী ভূয়া নামে ৮৬৯৭৩৯ নম্বরের টেলিফোনে ৩৪ লাখ ৩ হাজার ৪০ টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, কমলাপুর টেলিফোন সার্ভিস ক্যাম্পের এসআই শাহ আলম ও নূরুল ইসলাম কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই একই কক্ষে দুটি ফোনের সংযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নগরীর টেলিফোন জালিয়াতিচক্রের হোতা নজিবুল হকের সঙ্গে যোগসাজশে টিএন্ডটির দুর্নীতিবাগ লাইনম্যান ও প্রকৌশলীরা বিভিন্ন স্থানে ভূয়া নামে ৭৭টি আইএসডি টেলিফোন সংযোগ দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত করা হলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উৎসঃ রাইজিংবিডি