প্রযুক্তি ডেস্ক: সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে বাড়ছে পৃথিবীর বয়স। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব বানাচ্ছে। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে ততই কমছে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমান। বিশ্বে খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে মিঠা পানির আধার। একদিকে মেরুদ্বয়ের বরফ গলে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলের মিঠা পানি লবনাক্ত হয়ে উঠছে জলবায়ুগত কারণে। অবশ্য এতোকিছুর মাঝে পিছিয়ে নেই বিজ্ঞান।
সম্প্রতি মিশিগান ইউনির্ভার্সিটির একদল গবেষক গরুর গোবর থেকে বিশুদ্ধ পানি প্রক্রিয়াজাতকরণের উপায় বের করে ফেলেছেন। এতোদিন গরুর গোবর উন্নত সার হিসেবে ব্যবহৃত হতো কিন্তু এই আবিষ্কারের পর গোবর এখন আর শুধু বিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্টো অতি প্রয়োজনীয় বস্তু।
গবেষক দলের একজন সহকারী অধ্যাপক স্টিভ সাফারম্যান বলেন, ‘আমাদের এখানে (মিশিগান) পানির স্বল্পতা নেই। কিন্তু পশ্চিমের অঞ্চলগুলো প্রায়ই পানিশূণ্য হয়ে যায়। সেখানে খরা একটি মারাত্মক ইস্যু। খরার কারণে ওই অঞ্চলগুলোর কৃষকেরা ঠিকমতো চাষাবাদও করতে পারে না। তাদের জন্য এই আবিষ্কার আর্শীবাদ হয়ে দাড়াবে।’
গবেষক দলের মতে, একটি গরু প্রতিবছর প্রায় দশহাজার গ্যালন গোবর উৎপাদন করে। আর এই গোবরের উপাদানের মধ্যে ৯০ শতাংশই থাকে পানি। একশো গ্যালন গোবর থেকে অনায়াসেই ৫০ গ্যালন বিশুদ্ধ পানি বের করা সম্ভব। তবে ৫০ গ্যালন পানির জায়গায় ৬৫ গ্যালন পানি বের করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গবেষকরা। মিশিগানের একটি গরুর খামার প্রতিবছর প্রায় ১৭ লাখ ৯০ হাজার গ্যালন গোবর উৎপাদন করে। যা থেকে প্রায় নয় লাখ গ্যালন বিশুদ্ধ পানি বের করা সম্ভব বলে দাবি করছে গবেষক দল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংস্থার মতে, গরুর গোবর থেকে যদি পানি বের করা হয় সেই পানি শতভাগ বিশুদ্ধ নাও হতে পারে। গরুর গোবরে ক্ষতিকারক জীবাণু থাকে যা মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।
এবিষয়ে গবেষক দলের প্রতিনিধি জিম ওয়ালেন্স জানান, ‘আমরা গোবর থেকে অ্যামোনিয়া সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। আর অ্যামোনিয়া যে মানব শরীরের জন্য খারাপ তা আমরা জানি।’