বিনোদন ডেস্ক: অবশেষে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন কলকাতার অভিনেত্রী স্বস্তিকা। উড়িয়ে দিলেন তার আত্মহত্যা চেষ্টার সেই গুজব। এই নিয়ে মিডিয়া সরব থাকলেও তিনি টু শব্দটি করেননি এতদিন। তাই তাকে নিয়ে ভয়টা থেকেই যাচ্ছিল। তিনি মুখ খোলায় অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তার শুভাকাক্সক্ষীরা।
যদিও আত্মহত্যা’র গুজব উড়িয়ে দিয়ে মিডিয়াকেই গালিগালাজ করেছেন স্বস্তিকা। কিন্তু এতে মনটা তো হালকা হলো। কিছুটা হলেও মনের ভারটা তো কমলো!
স্বস্তিকা সামাজিক সোশ্যাল সাইটে মিডিয়াকে অভিযুক্ত করে লিখেন, আমার সিনেমা কোনও আলোচনা হচ্ছে না। এটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এর জন্য দায়ী সংবাদমাধ্যম।
স্বস্তিকা যে ভাষায় সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করেছেন তা কার্যত ছাপার অযোগ্য। স্বস্তিকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও লিখেন, ১২ বছর ধরে কমবেশি ৭০টি সিনেমায় অভিনয় করেছি। কিন্তু একটি ফিল্ম ম্যাগাজিন সেসব নিয়ে মোটেও মাথা ঘামায়নি। তারা শুধুই আমার ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে স্টোরি করতে চায়। কারণ তা বাজারে বিক্রি হয়।
প্রসঙ্গত বাইপাসের ধারে এক পাঁচতারা হোটেলে পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্বস্তিকার নিশিযাপন, আবার আত্মহত্যার চেষ্টা এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে মিডিয়ায় কতো খবর। এ নিয়ে মহাবিড়ম্বনায় আছেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও চিত্রপরিচালক সুমনও।
তিনি যে স্বস্তিকার সঙ্গে সেই হোটেলেই রাত কাটিয়েছেন তা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে স্পষ্ট। তার সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয় স্বস্তিকার। তিনি চলে যাওয়ার পরেও ফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় দু’জনের। এর ঘণ্টা দুয়েক বাদেই ঘটে অঘটন। স্বস্তিকার বাঁ হাতের কব্জিতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে জানান ডাক্তারা।
যদিও স্বস্তিকার পরিবারের তরফে জানানো হয়, একটি দুর্ঘটনায় মদের গ্লাস ভেঙে কাঁচ তার হাতে ঢুকে যায়। সেই তত্ত্ব মোটেও মানতে রাজি নয় স্বস্তিকাকে যারা চেনে তারা, এমনকী পুলিশও। ঘটনার পর নিউ টাউন থানার পুলিশ গ্রেফতার করে সুমনকে। পরে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়।
সুমনের অনুগামীরা অবশ্য অভিযোগ তোলেন, সরকার বিরোধী মনোভাবের জন্যই সুমনকে হেনস্থা করে পুলিশ। পাল্টা বক্তব্যে এ কথাও শোনা গিয়েছে, সেই রাতে হোটেলের ঘরে স্বস্তিকার সঙ্গে সুমনের যে কথাই হয়ে থাক না কেন, তাকে অন্তত শিষ্টাচারের পর্যায় ফেলা যায় না।