• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

রাজাকারের নাতির স্পর্ধা

Talhaসিসিনিউজ: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারাদেশ আজ সোচ্চার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত এগিয়ে নিতে বারবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী অজান্তে উদারতা ও স্নেহের সুযোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে ফরিদপুর অঞ্চলের একজন যুদ্ধাপরাধীর নাতি ৷ এই তথ্য গোপন ইমেইলে পেয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ফরিদপুরের কাদিরদী গ্রামের বিশু মিয়া৷ এই মহাপরাক্রমশালী বিশু মিয়া মুসলিমলীগের একজন সন্ত্রাসী নেতা ছিল,এলাকায় ছিল মূর্তিমান ত্রাস৷ পাকিস্তান আমলে মোনায়েম খাঁ ফরিদপুর অঞ্চলে আসলে বিশু মিয়ার বাড়িতে যেত। তার বাড়িয়ে আরাম-আয়েশ করতো। আইয়ুব খানের সময় এই বিশু এমএনএ পর্যন্ত হয়েছিল।
বিশু মিয়া একাত্তর সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সাক্ষাত যমদূত হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল ফরিদপুরবাসীর কাছে৷ তখন থেকে এলাকাবাসীর কাছে সে ‘বিশু রাজাকার’ নামে পরিচিত৷ এলাকায় কারা আওয়ামী লীগ করত, কারা মুক্তিযুদ্ধে গেছে, তাদের নাম পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে সরবরাহ করত এই বিশু রাজাকার ও তার চেলা চামুন্ডরা৷ পাকগোষ্ঠী তখন দেশ জুড়ে তাদের দালালদের সংগঠিত করছিল বাংলার মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে, কাদিরদী অঞ্চলে তখন পাকিস্তানের দালাদের নিয়ে ‘শান্তি কমিটি’ গঠিত হয়, এবং এই শান্তি কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিল বিশু রাজাকার । সে ছিল শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান৷ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে বাড়িতে লোক পাঠিয়ে তাদের নিকটজনদের ধরে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল, তাদের পরিবারের মেয়েদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল৷ এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে বিশু রাজাকার এর নির্যাতনের শিকার হয় ৷
এ সময় পার্শ্ববর্তী জয়নগর এলাকার কালিপদ পোদ্দারের পরিবারের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যায়৷ বিশু রাজাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যায়, এরপর এমনকি তার লাশটিও আর কোনদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি ৷ কালিপদ পোদ্দারের দুই মেয়ের উপর বিশু রাজাকার অকথ্য নির্যাতন চালায় ৷ লজ্জা ও অপমানে ওই দুই মেয়েকে পরবর্তিতে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল ৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৃত কালিপদ পোদ্দারের এক প্রতিবেশী আক্ষেপ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে কার জন্য ? স্বাধীন দেশে শহীদ কালিপদ পোদ্দারের বংশধররা থাকতে পারে না, দেশটা এখন বিশু রাজাকারের বংশধরদের জন্য ৷ বিশু রাজাকারের একমাত্র সন্তান রেবা লেখাপড়া শিখে শিক্ষক হয়েছিল, কিন্তু খুনির রক্ত শরীরে থাকলে খুনিই হয়, তা সে হোক না কোনো নারী ৷ বাবার মতই এই মহিলা এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে মহিলা গড ফাদার এর মত সন্ত্রাস চালিয়ে যায়, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করবার জন্য বাবার মতই খুন ও গুমের আশ্রয় নেয় ৷ কলেজের শিক্ষক নামের কলংক সন্ত্রাসের রানী এই মহিলার নামে একাধিক খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে , যা এলাকাবাসীর মুখে মুখে ৷ যদিও অনেক ঘটনা তদ্বির খাটিয়ে ধামা চাপা দেয়া হয়েছে, এলাকার নির্দোষ মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আজও হচ্ছে।
বিশু মিয়ার মেয়ে গডমাদার রেবার সন্তান খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ৷ টেলিভিশন খুললেই যাকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দেখা যায় । বিদেশ সফরে শেখ হাসিনার সার্বক্ষনিক সঙ্গী এই তালহা।
একাত্তরের শহীদ কালিপদ পোদ্দারের সম্ভ্রম হারানো কন্যারা ভিটামাটি হারিয়ে আজ উদ্বাস্ত, তাদের সন্তানদের জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের এক টুকরো মাটি পর্যন্ত নেই , আর আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যার পাশে আওয়ামী লীগ সেজে বিশু রাজাকারের নাতি বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় ।
এলাকাবাসী জানায়, আজ বিশু রাজাকার বেঁচে থাকলে হয়ত যুদ্ধাপরাধী হিসাবে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো, যে বিচারের আশায় পথ চেয়ে বসে ছিল কালিপদ পোদ্দারের সন্তানেরাসহ নির্যাতিত পরিবারগুলো ৷ রাজাকারের বিচার হলনা, সে দুঃখ তো আছেই, কিন্তু তার সাথে আরো অপমান যোগ হলো যখন তারা টেলিভিশন খুললেই দেখতে পায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে রাজাকারের সরাসরি বংশধরকে, বিদেশের মাটিতে গার্ড অফ অনার নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে!
ফরিদপুরের রাজাকার প্রধানের নাতি কি করে রাষ্ট্রাচার প্রধান হলো, তাও আবার শেখ হাসিনার? শুধু কি তাই? যে ব্যক্তির আগের দুই পুরুষ , অর্থাত মা এবং নানা দুজনেই খুনি , বংশ পরম্পরায় যার দেহে খুনির রক্ত, সে কি কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে পারে?

এই তালহা, সেই তালহা:
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তার চাইতে আজকাল আর কেউ বেশি আওয়ামী লীগ নেই ৷ এই ব্যক্তি চাকুরিতে ঢুকেছিল ১৯৯৫ সালে, এরপর সব সরকারের সময় সময়ে তদ্বির করে করে ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছে৷ চাকুরীর শুরুতে বিএনপি আমলে বার বার খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হয়েছে, এরপর আবার আওয়ামী লীগ-এর সময় ভালো জায়গায় গেছে, বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করে ক্ষমতার আশে পাশে থেকেছে৷ তারপর বিএনপি- জামাতের আশীর্বাদে নিউ ইয়র্ক-এ পোস্টিং বাগিয়েছে ৷ এক কর্মকর্তা একবারে দুটোর বেশি বিদেশে পোস্টিং পাবার নিয়ম না থাকলেও এক-এগারোর পর ভোল পাল্টে আবার কেয়ারটেকার সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টাকে ধরে তিন নম্বর পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছে জেনেভাতে ৷ এরপর আবার আওয়ামী লীগ আসলে নির্লজ্জভাবে ডিগবাজি খেয়ে মোদাচ্ছের আলীর পরিচয় ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সেজেছে, এবং তদবিরের জোরে সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে রাষ্ট্রাচার প্রধান হয়েছে ৷ এখন বিশু রাজাকারের নাতি ভোল পাল্টে শেখ হাসিনার পাশে পাশে৷
জোর গুজব রয়েছে, এই ব্যক্তি এখন নাকি লন্ডনে যাবার সুযোগ খুঁজছে, বাংলাদেশ দুতাবাসে উচ্চতর পোস্টে ৷যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যেই পোস্টিং করছে তার বোনের স্বামী জাকির আহাদ ৷ এখন যাচ্ছে তালহা ৷ অর্থাত অন্যরা গোল্লায় যাক, বিশু রাজাকারের নাতি আর নাতজামাই-ই এখন যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়াবে ৷ সেই যুক্তরাজ্যে, যেখানের প্রতিটি ইট পাথরে লেখা আছে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অশ্রু আর সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস ৷ আজকে সরকারের সময় শেখ হাসিনার উদারতার সুযোগ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপহার দিচ্ছে রাজাকারের নাতিপুতিদের ৷ কাদিরদীর বাসিন্দাদের চাইতে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের দুঃখ কি আজ কম ?
এই বিষয়ে কথা বলতে বারবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি রেবা। অন্যদিকে রেবার পুত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধান খন্দকার মোহাম্মদ তালহা বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যে। তিনি দাবি করেন,তাঁর নানা বিশু মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় হিন্দু লোকদের সহয়তা করেছেন। তবে তাঁর মা রেবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদেরকে একটি প্রভাবশালী মহল এলাকা থেকে উচ্ছেদ করতেই এই মিথ্যে এবং সাজানো মামলা দায়ের করেছিল।

উৎসঃ   ঢাকাটাইমস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ