সিসিনিউজ: আশা করা হচ্ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা দিয়েই তার বিদেশ সফর শুরু করবেন; নয়াদিল্লি থেকে সে ধরনের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছিল। তবে তার বদলে দুদেশের সম্পর্কের নতুন বাতাবরণ তৈরি করতে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা আসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। অভিজ্ঞ এ বিজেপি নেতার বাংলাদেশ সফরের কথা জানতে পেরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছেন। দুদিনের সফরে আগামী ২৬ জুন সকালে তার ঢাকা এসে পৌঁছানোর প্রাথমিক সূচি তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র এ তথ্য জানায়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের, বিশেষত মোদি সরকারের ‘কূটনৈতিক সম্পর্কের নয়া মোড়’ তৈরির প্রাথমিক দিকনির্দেশনা ও একটি কৌশলপত্র তৈরি করতেই বিজেপি সরকারের তরফ থেকে সুষমা স্বরাজের এই সফর বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। যদিও শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোও তার এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, আগামী ২৬ জুন সুষমা স্বরাজের ঢাকা পৌঁছার প্রাথমিক দিন নির্ধারিত হয়েছে। সেই অনুযায়ী সফরের সূচি তৈরির জন্য নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। আপাতত দুদিনের জন্য এই সফরের কথা রয়েছে। ঢাকা এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করে তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিল্লি সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করবেন। এ ছাড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে তিনি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর বাইরে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েক মন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, নরেন্দ্র মোদির ভুটান দিয়েই প্রথম বিদেশ সফরের কথা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সেদিনই সুষমা স্বরাজকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৬ মে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি দুদেশের উন্নতিতে এক সঙ্গে কাজ করার ওপর তাগিদ দেন। নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশ আশা করছে, ভুটান সফর থেকে ফিরে ‘সুবিধাজনক সময়ে’ ঢাকা আসবেন নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির চাণক্যপুরির সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদি দেশটি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য ‘হালনাগাদ’ হতে চান। কারণ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিগত চল্লিশ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সম্পর্ক সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওঠে। এপারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামী লিগের জোট সরকার ও ওপারে কংগ্রেস নেতৃত্বের জোট সরকারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার নতুন মাত্রা পায়। উত্তরপূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনেও নয়াদিল্লিকে আশাতীত সহযোগিতা করে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, নৌ, বাণিজ্যসহ নানা খাতে দুদেশ এক সঙ্গে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই বিষয়গুলোতে বিজেপি সরকারের একটি কৌশলপত্র তৈরির প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন নরেন্দ্র মোদি। কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অবস্থানকে নতুন করে উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান নয়া প্রধানমন্ত্রী। তাই বাংলাদেশ বিষয়ে জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও তিনি এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই সুষমা স্বরাজ আসছেন ঢাকা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত কংগ্রেস নেতৃত্বের দ্বিতীয় জোট সরকারের আমলে দুদেশের মধ্যে নানা বিষয়ে সম্পর্ক বেগ পেলেও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মসৃণতাকে বন্ধুর করে দেয়। গত লোকসভায় বিজেপি, অসম গণপরিষদ ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় চুক্তি দুটি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হয়। এখন মোদি সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর এই চুক্তি আলোর মুখ দেখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুষমা স্বরাজের সফর ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ঢাকার কূটনৈতিক মহলে। কারণ শুধু তিস্তা বা সীমান্ত চুক্তিই নয়, দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে যে চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে, তার ধারাবাহিকতা রক্ষাও প্রয়োজন। উৎসঃ বর্তমান