সিসিনিউজ: কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দু’জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয়েছে।
অন্যদিকে জেলার করিমগঞ্জে গাছ থেকে শিশুদের পাঁকা কাঁঠাল খাওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
আজ বুধবার সকালে মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজ উদ্দিন মেম্বার ও সিহারা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবুল নাসির গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিহারা গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মর্জিনা (১৪) ও আসাদ মিয়ার ছেলে গার্মেন্টসকর্মী রুবেল (১৮) টেটা, বল্লম ও রামদায়ের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। মহিলাসহ আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।
এলাকাবাসী জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ উদ্দিন মেম্বার ও আবুল নাসির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মামলা মোকদ্দমাও চলে আসছে। এর জের ধরে আজ সকালে সিহারা ও ধুবাজোড়া গ্রামের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষে আবুল নাসির গ্রুপের মর্জিনা ও রুবেল ঘটনাস্থলেই যায়। ধারালো অস্ত্র, বল্লম ও টেটার আঘাতে উভয় গ্রুপের জোসেফ (১২), মোখলেছ (১৮), লোকমান (২৫), তৈয়ব আলী (৩০), আব্দুর রশিদ (৬০), মিনারা বেগম (২৫), জোসনা (২৫), মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী শাহীনূর বেগম (২০), আব্দুর রহিম (৫৫), রুবেল (১৮), আসাদ মিয়া (৪৫), রুস্তম আলী (২৫), কামাল (২২), মোবারক হোসেন (৩০), আঙ্গুর মিয়া (৩০), আইয়ুব আলী (৩০), আইয়ুব আলী (৪০), ইব্রাহিম (২৮), খলিলুর রহমান (৪০), বোরহান (২০), সালাম (৩২), মীরজাহান (১৪), নবী হোসেন (২০), আনিস মিয়া (৪০), হোসেন মিয়াসহ (১৮) দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান ও মিঠামইন থানার ওসি নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
অন্যদিকে করিমগঞ্জের বারঘড়িয়া গ্রামে গাছ থেকে শিশুদের কাঁঠাল পারা নিয়ে সংঘর্ষে জাকারিয়া (২৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৩০ জন। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারঘরিয়া গ্রামের মালেক কাজীর গাছ থেকে মঙ্গলবার ছোট ছেলেদের কাঁঠাল খাওয়াকে কেন্দ্র করে শিশুদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর সূত্র ধরে আজ সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি হারেছ মেম্বারের লোকজনের সাথে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি বর্তমান মেম্বার লুৎফর রহমনের ও রতন গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে হারিছ মেম্বারের পক্ষের রইছ উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া (২৭) বল্লমের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় আরো অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানার ওসি আক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।