ঢাকা : গত ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবেন এমন বক্তব্যই দিয়ে আসছিলেন। এখনো (সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যাদের ভূমিকা নেই এমন) কিছু নেতা একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের ভেতরের অবস্থা অনেকটা ভিন্ন। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা থেকে অনেকটা পিছু হটছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকার একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা ভাবছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাগ্রহণের পর সরকার দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে এতো কম সময়ের মধ্যে বেকায়দায় পড়বে এমন ধারণা না থাকলেও বাস্তবতা অনেকটা ভিন্ন। নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, পাবনা, লক্ষ্মীপুর, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অপহরণ, খুন ও গুমের ঘটনায় সরকার মারাত্মকভাবে বিব্রত হয়ে পড়েছে। আর এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অনেকটা কৌশলী হচ্ছে সরকার। বিরোধী জোট যাতে এখনই বড় ধরনের কোনো আন্দোলনে না যায়, সেজন্য বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটকে ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের টোপে’ ফেলতে চাচ্ছে সরকার। এটিকে সরকারের একটি কৌশল বলেও ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকারের কোনো ফাঁদে পা দেবেন এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, আগামী ঈদ-উল-ফিতরের পরই সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আন্তরিক হবে সরকার। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই একটি জাতীয় নির্বাচন চায় সরকার বিরোধী জোট। আর এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বিরোধী এ রাজনৈতিক জোট। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও নির্বাচন পরিচালনাকারী সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার বলে মনে করছেন বিএনপি-জামায়াত।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চান। যাতে তাদের ভোটে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত হবে জনগণের মনের ভাষা বুঝে নির্বাচন দিয়ে দ্রুত বিদায় নেওয়া। এক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করলে জনরোষেই সরকারের পতন ঘটবে।
সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে চায় সরকার। বিরোধী জোটকে এমন একটি আভাস দিয়ে আন্দোলনের গতি দুর্বল করার কৌশলগ্রহণ করবে সরকার। আর আলোচনা শুরু করা হচ্ছে, হবে এমন আভাস দিয়ে সরকার সময়ক্ষেপণও করতে পারে। এরইমধ্যে সরকার নিজেদের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করবে। বিএনপি-জামায়াতকে দুর্বল করে সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নতুন নতুন কৌশলও গ্রহণ করবে।
বিএনপি বলছে, এতো কিছু করতে আর খুব বেশি সময় পাবে না সরকার। তারা সরকারকে রমজান মাস পর্যন্ত সময় দিতে চায়। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের প্রক্রিয়া শুরু করা না হলে আন্দোলনের পথেই হাঁটবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দল।
গত ৮ জুন রোববার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই বৈঠকে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সংলাপের জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত আছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ২০১৯ সালের মধ্যে নির্বাচন নয়, এখনই সংলাপ করার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের মেয়াদ নিয়ে কোনো কথা বলেননি।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ গত ৯ জুন দলের ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তার দল সব সময়ই সংলাপের পক্ষে। জনগণ যদি মধ্যবর্তী কোনো নির্বাচন চায় তখন সেটা দেখা যাবে। তিনি বলেন, বেগম জিয়া ছাড়া আর কেউ আগাম নির্বাচন চায়না। সেক্ষেত্রে এখনই সংলাপ হতে হবে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি দেখছেন না তিনি। তবে আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য যেকোনো সময়ই সংলাপ হতে পারে।
শীর্ষ নিউজ ডটকম