• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

তারেক রহমান মিথ্যা ইতিহাস ছড়াচ্ছেন

Tareqসিসিনিউজ: সকলেই জানেন জনগণের ভোট ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা মেম্বার পর্যন্ত নির্বাচিত হওয়া হওয়া যায় না। ভোটাধিকার হল একটি সভ্য সমাজের অন্যতম স্তম্ভ।

তবে ভোটাভুটি ছাড়া একটি দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া, দেশের প্রধান হওয়া অথবা রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থায় রাষ্ট্র প্রধান হওয়াটা সর্বজন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঠিক তেমনি কাজ করেছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালে বিচারপতি আবু সায়েমকে ক্ষমতাচ্যুত করে জোরপূর্বক রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করে রাষ্ট্র প্রধান পদ গ্রহণ করেন জেনারেল জিয়া । তবে জেনারেল জিয়া অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়ে বেশ সচেতন ছিলেন। তাই নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি বৈধ করার চেষ্টা করেন জেনারেল জিয়া। তাই ১৯৭৮ সালের জুন মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র প্রধানের পদ অলঙ্করিত করেন। জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। জেনারেল জিয়া যখন রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করেন তখনও জিয়া সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তাই ১৯৭৯ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে নিজের অবৈধ কাজগুলো বৈধ করেন। এগুলো হল কড়া ঐতিহাসিক সত্য এবং কেউ বিষয়গুলো অস্বীকার করতে পারবেন না।

দুঃখের বিষয় হল জিয়ার ছেলে ও বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান যেকোনো ভাবে জেনারেল জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বানানোর সকল ধরনের চেষ্টা-তদবির করছেন।

গত রোববার রাজধানীতে ‘জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষণা’ নামক একটি বই যেটি তারেক রহমান সম্পাদনা করেছেন সেটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বইটিতে ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের দোষ-ত্র“টির গুণগান গেয়ে তাকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্রগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে অনেকটা তড়িঘড়ি করে জিয়াউর রহমান নিজেকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তবে ঘোষণার কয়েক মিনিটের মাথায় তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং পরবর্তীতে ভিন্ন একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, আমি বাংলাদেশের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়েছে।

তারেক রহমান তার সম্পাদিত বইতে এই সত্যটি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছেন। দুঃখের বিষয় হল বিএনপি’র অনেক বিজ্ঞ বুদ্ধিজীবীরা এই মিথ্যাকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা কি মনে করেন যে দাবি করলেই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হওয়া যাবে? ইতিহাস বলেতো একটি জিনিস আছে নাকি। সম্ভবত তারেক রহমানকে খুশি করার জন্য অন্ধ বুদ্ধিজীবীরা এই ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।
উৎসঃ   ডেইলি স্টার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ