দিনাজপুর প্রতিনিধি: খানসামা সোনালী ব্যাংকে চেকের পাতায় স্বাক্ষর জাল করে ২ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতারনার শিকার খানসামা উপজেলার জুগিরঘোপা গ্রামের মৃত গোড়া চাঁদ রায়ের স্ত্রী নয়ন বালা রায়।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মা নয়ন বালা রায়ের পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন পুত্র প্রমূখ চন্দ্র রায়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি গত ০১-০১-২০১৪ তারিখে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলাধীন পাকেরহাট সোনালী ব্যাংক শাখায় আমার সঞ্চয়ী হিসাবে ৩৪০৪৫৭০১ নম্বরে ২,০০০০০/= (দুই লাখ) টাকা জমা করি। এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি চেক প্রদান করে যার নং-গচ/১০ নং-৫৭৭৩৭৭১ হতে ৫৭৭৩৭৭৯ পর্যন্ত মোট ৯টি পাতা ছিল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, তার পর থেকে আমি কোন খোঁজ-খবর করিনি। বর্তমানে আমার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় খোঁজ নিতে গত ১৭-০৬-২০১৪ তারিখে পাকেরহাট সোনারী ব্যাংকে যাই। ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি কে বা কারা গত ৩০-০১-২০১৪ তারিখে চেকের ৫৭৭৩৭৮০ নম্বর পাতায় আমার স্বাক্ষর জাল করে ১,৯৮,০০০/= টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমার সাথে টালবাহানামূলক কথা-বার্তা বলে। এতে আমার সন্দেহ হয় যে, আমার স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের সাথে ব্যাংকের লোকজন জড়িত আছে। আমি একজন স্বল্প শিক্ষিত মহিলা এবং বয়ষ্ক শিক্ষায় শুধু নাম লেখা শিখেছি এ ছাড়া আর কিছুই জানি না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অফিস কর্তৃপক্ষ আমাকে চেক প্রদানের সময় একটি পাতা তারা রেখে দেয়। আর ওই পাতা দিয়েই তারা জালিয়াতি করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি শফিকুল নামে জনৈক ব্যক্তি অফিস কর্তৃপক্ষের যোগশাজসে আমার স্বাক্ষর জাল করে আমার ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা তুলে নিয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে সরেজমিন তদন্ত করে আমার টাকা উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোনালী ব্যাংক দিনাজপুর প্রিন্সিপাল অফিসে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি তার টাকা দ্রুত ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রমূখ চন্দ্র রায়ের চাচাতে ভাই দিপু চন্দ্র রায়।