নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে সংস্কৃতি মন্ত্রী সাংসদ আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ীবহরে হামলা ও চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলার আসামী জামিয়ার রহমান (২৮) নামের এক শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত জামিয়ার একই উইনয়নের সুখধন দহুলীপাড়া গ্রামের কাল্টু মুন্সির ছেলে।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নীলফামারী থানার উপ-পরির্দশক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত জামিয়ার শিবিবের সক্রিয় কর্মী তবে সে এই মামলার তদন্তে পাওয়া আসামী। সে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর রামগঞ্জ বাজারে বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জান নূরের গাড়ী বহরে হামলা ও চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যার ঘটনার সাথে প্রকাশ্যে অংশ গ্রহণ করেছিল যা মামলার তদন্তে পাওয়া যায়। ঘটনার দিন থেকে সে পলাতক ছিল।
নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান পাশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত জামিয়ারকে রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে মানবতবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাহর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষèীচাপ ও টুপামারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক আরাজগতা চালায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৪ ডিসেম্বর তৎকালিন সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ক্ষতিগ্রস্থ লক্ষীচাপা ইউনিয়ন পরির্দশন শেষে শহরে ফেরার পথে টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে আসলে ১৮দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা তার গাড়ী বহরে হামলা চালায়। এসময় নূরকে রক্ষা করতে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসলে ১৮দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সাথে সংর্ঘষ বাঁধে। এতে কৃষক লীগ নেতা খোরশেদ আলম চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা দুই সহদর ফরাহাদ হোসেন, মুরাদ হোসেন এবং আওয়ামী লীগ কর্মী লেবু মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বাদী হয়ে ওই রাতেই একটি মামলা করেন।