বদরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে গভীর রাতে পাকা বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে রাজিয়া সুলতানা (৩৫) নামে এক গৃহবধুকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবী স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বিবাদের জের ধরে রাজিয়ার স্বামী আনসার ব্যাটেলিয়ানের সদস্য জাহিদুল হক ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে খুন করে। খুনিরা তাকে হত্যার পর ঘরের দরজা খুলে পালিয়ে যায়। নৃশংস এ হত্যাকান্ডটি ঘটে গত রবিবার (২৩ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাওচন্ডি বালাপাড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাজিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। জাহিদুল হকের বাড়ি একই এলাকার ডাঙাপাড়ায়। সে শ্বশুর বাড়ির পাশে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। সে বর্তমানে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার বাশুয়ারি পুলিশ ফাঁড়ির আনসার ব্যাটেয়ানের সিপাহী হিসেবে কর্মরত আছেন।
জানা যায়, রবিবার ঘটনার রাতে রাজিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় তার ৬ বছরের শিশুপুত্র ইয়াছিন আরাফাত আবু ও ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান আরেক বোনের বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটিতে ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করে। নিহত রাজিয়ার ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নিপতি জাহিদুল হকের সঙ্গে আমার বোনের বনিবনা ছিল না। প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে ছিল। ফোন করে তাকে হত্যা ও তালাকের হুমকি দিত। ঘটনার আগের সে আমাদের কৌশল করে আরেক বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেয়। তার কথা শুনে আমার সেখানে যাই। খবর পেয়ে জানি বোনকে খুন করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, ঘরের ভেতর রক্তের দাগ লেগে আছে। খুনিরা ঘরের কোন জিনিসপত্র তছনছ করেনি। খাটের ওপর ফেলে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল হক বলেন, শ্বশুরবাড়ীর লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। তদন্ত করে খুনিদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।