নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় জমি জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজনসহ নিরীহ গ্রামবাসির বিরুদ্ধে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও বাড়ীঘর ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ তদন্ত ছাড়াই নিরীহ লোকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি সরকারপাড়া গ্রামের খয়বর হোসেনের সাথে একই গ্রামের নুর উদ্দীনের দীর্ঘদিন ধরে জমি জমা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এনিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে গত ২০ জুন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ড হয়। এদিকে ঘটনার দুই দিন পর ২২ জুন খয়বর হোসেনের ছেলে জাবেদুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ নুর উদ্দীনের তিন ছেলে, তাদের আত্মীয়সহ প্রতিবেশী ১১ জনকে আসামী করে সৈয়দপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আসামীরা দলবল নিয়ে বাড়ীতে হামলা করে ভাংচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্নালংকার লুট ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়। অভিযুক্তরা জানান থানা কর্তৃপক্ষ তদন্ত না করে ওই দিনেই মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেন। যার মামলা নং-১১ তারিখ-২২/০৬/১৪।
এদিকে শুক্রবার সরেজমিনে কয়েকজন সংবাদকর্মী ওই গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে, জমি জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই মামলা দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের আব্দুর রহমান, আব্দুল খালেক, জয়মনা বেগম, দুলাল হোসেনসহ অনেকে জানায়, হয়রানী করা জন্য গ্রামের খেটে খাওয়া নিরীহ লোকজনের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় মদি দোকানদার রোস্তম আলী জানান, মামলার বাদীর বাড়ীর কয়েক গজ দুরে তার দোকান। তিনি বলেন সে দিন আমি দোকানে বসে দেখছিলাম উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে স্থানীয় লোকজন উভয় পক্ষের লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। আর ঘটনার দু’দিন পর শুনছি এখানে নাকি মারামারি, ভাঙ্গাভাঙ্গী ও টাকা-পয়সা, সোনাদানা লুটপাট করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামী শাহজাহান আলী জানান, স্থানীয় জাতীয় পাটির জনৈক নেতা সুপারিশে তদন্ত ছাড়াই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদার রহমান জানান, কার তদবিরে নয় বিধি মোতাবেক মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।