আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর মোহাম্মদ আবু খাদেরকে অপহরণের পর তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে ইসরাইলের উগ্রবাদী ইহুদিরা। এমন অভিযোগ এনেছেন ফিলিস্তিনিরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত বুধবার খাদেরকে ফিলিস্তিন অধ্যুষিত পূর্ব জেরুজালেমের শুয়াফাত এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর পশ্চিম জেরুজালেমের একটি জঙ্গল থেকে তার আগুনে পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। গত শুক্রবার খাদেরের দাফন সম্পন্ন হয়। হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন। ফিলিস্তিনের এক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আলুওয়েইউয়ি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত কিশোরের ফুসফুসে ধোঁয়া জমে ছিল। এটাই নির্দেশ করে যে জীবন্ত অবস্থায় তাকে পোড়ানো হয়েছে। আবু খাদেরের মাথায় আঘাতের চিহ্নও ছিল। তবে ওই আঘাতে তার মৃত্যু হয়নি। ইসরাইলি পুলিশ বলছেন, ওই কিশোরকে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তারা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি। তারা সম্ভাব্য যে কোন কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছেন। খাদেরের জানাজার পরই টানা তৃতীয় দিনের মতো সহিংসতা শুরু হয়। তার মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল ইসরাইলের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলিগুলোতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সড়ক ও যান চলাচল বন্ধ ছিল এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, গত মাসে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ৩ কিশোরকে অপহরণ ও হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে উগ্রবাদী ইহুদিরা। এ ঘটনার পর গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে রকেট নিক্ষেপের মাত্রা বেড়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে সংঘর্ষ শুরুর পর এ পর্যন্ত পর্যন্ত ৩৫ জন সন্দেহভাজন ইসরাইলিকে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব জেরুজালেম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৫ ফিলিস্তিনিকে। পূর্ব জেরুজালেম থেকে আটককৃতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী তারিক আবু খাদেরও রয়েছে। সম্পর্কে নিহত কিশোরের চাচাতো ভাই তারিক। সে মার্কিন নাগরিক। ছুটিতে ফিলিস্তিনে নিজ বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল তারিক।