সিসিনিউজ: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীর গত কয়েক মাস থেকে সিলেটে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে তাদের দলীয় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
গোপনে কর্মী সংগ্রহ করে প্রকাশ্যে দলের কাজ পরিচালনা করার পর পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে দাবি করায় এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা রহস্য।
জানা যায়, সিলেটের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোক এই সংগঠনের অন্যতম সদস্য। শিক্ষার্থী ও সরকারি উচ্চ পর্যায়ের লোকদের সদস্য করাই এই সংগঠনের প্রধান টার্গেট। আর এই টাগের্ট নিয়েই তারা নীরবে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সর্বশেষ গতকাল শনিবার তারা ক্রেতা সেজে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় দলীয় লিফলেট বিতরণ করেছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের শেষে পৃথক ভাবে হিযবুত তাহরীরের ১০-১৫ জন সদস্যরা নগরীর বন্দরবাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও পাঠানটুলা জামে মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছে।
একই ভাবে গত ২৩ মে নগরীর বন্দরবাজারের আবু তুরাব মসজিদের সামনে জুমার নামাজের পর হিযবুত তাহরীরের সাত-আটজনের একটি দল প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করে লিফলেট বিতরণ করে।
তবে প্রকাশ্যে হিযবুত জঙ্গিরা চলাফেরা ও দলীয় কার্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও পুলিশ রয়েছে সুখনিদ্রায়। যে মাসে যেই দিন তারা লিফলেট বা মিছিল করে তখন পুলিশ প্রশাসনের কাছে যোগাযোগ করা হলে বেশিভাগ সময়ই পুলিশ বলে, ‘এ ধরণের তথ্য আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। হলে ব্যবস্থা নিব।’ কিন্তু পরবর্তীতে আর কোন ব্যবস্থাও নেয় না পুলিশ।
বিশেষ করে সিলেট কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান সব সময়ই এমন আচরণ করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ নগরীতে বিগত কয়েক মাসে যেসব স্থানে হিবযুত তাহরীর লিফলেট বিতরণ করেছে তা বেশির ভাগই কোতয়ালী থানার আওতাভূক্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ধর্মপ্রাণ মানুষের সরল বিশ্বাস কাজে লাগিয়ে জঙ্গিরা যেমন সিলেটে আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করে। নিষিদ্ধ হওয়ার পাঁচ বছরেও হিযবুতের সেই সাংগঠনিক শক্তি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয়নি। তারা এখনো তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র মতে, ২০০১ সাল থেকে সিলেটে হিযবুত তাহরীরের তৎপরতা শুরু হয়। পরে আম্বরখানায় অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করে সংগঠনটি। ২০০৯ সালে নিষিদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত আম্বরখানায় এলাকায় তাদের অফিস ছিল। এরপর থেকে শুরু হয় তাদের সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ। সেসময় তাদের সংগঠনের সঙ্গে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী যুক্ত হয়।
২০০৯ সালে নিষিদ্ধ হওয়ার পর হিযবুত কর্মীরা ‘ইয়ুথ ফর চেঞ্জ’ নামে একটি সংগঠন চালু করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশের অভিযানে প্রায় ৪০ জন হিযবুত কর্মী গ্রেপ্তার হলে বাকি কর্মী প্রায় সবাই রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের মধ্যে ১৮ জন ছাড়া বাকিরা জামিনে মুক্ত হয়।
সিলেট জেলাএ ব্যাপারে সিলেট কোতয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘হিযবুত তাহরীর সিলেটে কার্যকম পরিচালনা করছে এটা আমার জানা নেই।’ তবে তারা (হিযবুত তাহরীর) কীভাবে গত কয়েক দিন কয়েক স্থানে লিফলেট বিতরণ করছে এমন প্রশ্ন করা হলেও তিনি বলেন, ‘এটাও আমি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।’
তবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রহমত উল্লাহ বাংলামেইলকে বলেন, ‘সিলেটে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীরের কিছু কার্যক্রম চলছে এমন খবর শুনেছি। আমরা হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমাদের পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করে যাচ্ছে।’ উৎসঃ বাংলামেইল২৪