খেলাধুলা ডেস্ক: এবাবের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ খেলতে নামছে ব্রাজিল৷ সেমিফাইনাল বলে নয়৷ বিপক্ষে জার্মানি বলেও নয়৷ নেইমার ও থিয়াগো সিলভার না থাকাই ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিল৷ আমি সেমিফাইনালে জার্মানিকে এগিয়ে রাখছি৷ নেইমার ও থিয়াগো না থাকার জন্যই৷ কিচ্ছু করার নেই৷
নেইমারবিহীন ব্রাজিল বিপক্ষ শিবিরে কতটা দাঁত ফোটাতে পারবে, তা নিয়ে আমার ব্যাপক সংশয় রয়েছে৷ নেইমারের দলে থাকা আর না থাকা কতটা বড় ফ্যা’র হতে পারে, তা প্রথম সেমিফাইনালেই গোটা বিশ্ব দেখতে পাবে৷ সবচেয়ে বড় কথা, নেইমার, থিয়াগো না থাকায় ব্রাজিলের শুধু শক্তি নয়, স্পিরিটটাও কমে গেল৷ যে স্পিরিটে ঘরের মাঠে ব্রাজিল ফুটবল খেলছিল, সেই স্পিরিটটা এক ধাক্কায় কমে গেল অনেকটাই৷ বিপক্ষে যে দলটি রয়েছে, সেই দল কিন্তু সবসময় বড় আসরে নিজেদের দারুণভাবে মেলে ধরে৷ সবসময় এটা দেখা যায় জার্মানির মধ্যে৷ এটা আজকে বলে নয়৷ বহু বছর ধরেই জার্মানির মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়৷ সুতরাং নেইমার, থিয়াগোবিহীন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জার্মানি যে অলআউট ঝাঁপাবে, এ বিষয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই৷ সবচেয়ে বড় কথা, জার্মানি বিশ্বকাপের মতো আসরে বরাবর হিসেব উল্টে দিয়ে থাকে৷ মনে পড়ছে, ’৬২-তে গ্রুপ লিগে হাঙ্গেরির কাছে হেরে গেলেও ফাইনালে পুসকাস-সহ গোটা দলটাকেই উড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানি৷ হাঙ্গেরি ফাইনালে হেরে যায়৷ সবচেয়ে বড় কথা, জার্মান ফুটবলাররা বড় আসরের ম্যাচে মানসিকভাবে খুব শক্ত হয়ে যায়৷ যা অন্যান্য দলের ফুটবলারদের মধ্যে এতটা দেখা যায় না৷
জানি না স্কোলারি নেইমারের জায়গায় কাকে খেলাবেন৷ শুনছিলাম উইলিয়ানকে খেলাবেন৷ কিন্তু প্রিভিউ লেখার সময়ে জানতে পারলাম, উইলিয়ানের নাকি আবার লেগেছে৷ জানি না স্কোলারি আবার ওকে পাবেন কি না৷ আর নেইমার থাকলে যে সুবিধে স্কোলারি পেতেন, এবার সেই সুবিধে পাবেন না সেমিফাইনালে৷ কারণ, নেইমার খেলা মানেই বিপক্ষের অম্তত দু’জন ফুটবলার ওকে মার্ক করে রাখে৷ জার্মানির এবার সেই অসুবিধে থাকবে না৷ কারণ, নেইমার নেই৷ দু’জন ফুটবলার ফ্রি পেয়ে যাবেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো৷ এটা স্কোলারির পক্ষে ভাল নয়৷ জার্মানি এবার খেলছে টোটাল ফুটবল৷ সবাই মিলে এগোচ্ছে৷ আবার সবাই একসঙ্গে নিচে নামছে৷ ভয়ঙ্কর গতি৷ জানি না স্কোলারির দল সেই গতির বিরুদ্ধে কী করবে৷ আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি নেইমারের চেয়েও দলের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভার না থাকা৷ রক্ষণে ও যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে খেলছিল, সেটা কেউ পারবে না৷ রক্ষণটা একাই তো ধরে রেখেছিল৷ এবার সেই রক্ষণে শুনছি দাম্তেকে খেলানো হবে৷ জানি না ও কতটা পারবে৷ মুলারকে রুখবে কী করে? আর সেই ত্রিভুজ? সোয়াইনস্টেগার, ওজিল ও পোদোলস্কির অসংখ্য পাস খেলা রুখবে কে? সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে ব্রাজিল কেমন যেন অসহায়৷ সেই জন্য আমি জার্মানিকেই এগিয়ে রাখছি৷ কিন্তু যেহেতু দলটার নাম ব্রাজিল, তাই ভাবছি, যদি কোনওরকমে হারিয়ে দেয় জার্মানিকে, তা হলে নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় আপসেটের সাক্ষী থাকব আমরা৷ বাকিটা তো সময়ই বলবে৷
দৈনিক আজকাল