দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের পুরাতন ঝঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। যেকোন মুহুর্তে ভবনের দেয়াল ও ছাদের ফেটে যাওয়া অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, চিরিরবন্দর উপজেলায় ১৯৬৮ সালে গেটবিম ও কলাম ছাড়াই শুধুমাত্র ইটের গাঁথুনী দিয়ে একটি হলরুমসহ ১৬ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মানের পর ভবনটি একাধিকবার মেরামত করা হলেও বর্তমানে এই ভবনের অবস্থা ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের দেয়াল ও মেঝেতে বড় ধরনের ফাটলসহ ছাদ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তাছাড়া ফেটে যাওয়া অংশ দিয়ে বৃষ্টির পানি কক্ষে প্রবেশ করে দেয়াল ও মেঝে স্যাঁতসেতে হয়ে উঠেছে। এছাড়া অফিসের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাঠের চেয়ার, টেবিল ও আলমারিতে উইপোকার আক্রমনে মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ জাহেদুল ইসলাম জানান, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি ঢুকে মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মীর শাহজাহান আলী, মৎস্য কর্মকর্তা সমর চক্রবত্রী, সমবায় কর্মকর্তা আব্দুস সবুর, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আজাদুল আক্তার একই অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। চিরিরবন্দর উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ভবনের ছাদ দিয়ে পানি চুয়ে কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপরের জলছাদটি সংস্কার করা হলে আপাতত সমাধান হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে ভবনটি কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আফতাব উদ্দীন মোল্লা জানান, ভবনটির ধারণ ক্ষমতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে জরাজীর্ণ ভবনটি ভেংগে নতুন করে উন্নতমানের ভবন তৈরী করা দরকার। আশা করছি খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট বিভাগ নতুন ভবন নির্মানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।