সিসিনিউজ : দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ২০তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের হাই ভোল্টেজ ম্যাচটি অবশেষে টাই ব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে ২৪ বছর পর ফাইনালে পৌঁছে গেলো আর্জেন্টিনা। আর এ জয়ের নায়ক আর্জেন্টাই গোল রক্ষক রোমেরু। এর আগে প্রথমার্ধের মতো নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও কেটে যায় গোল শূন্য অবস্থায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই ব্রেকারে। অবশ্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারনে দুই পক্ষের আক্রমন পাল্টা আক্রমনে দারুন জমে উঠেছিল খেলাটি। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। অবশ্য আক্রমনের দিক থেকে আর্জেন্টিনার প্রাধান্য কিছুটা বেশিই ছিল। তার আগে বুধবার সাও পাওলোর পাওলোস কোয়েন্থিয়ান্স এরিনায় বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় মাঠের লাড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও এরিয়েন রোবেনের নেদারল্যান্ডস।
বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আলবিসেলেস্তেরা বেশ কয়েকটি কর্ণার ও ফ্রি কিক পেয়েছিল। একইভাবে পয়েছিল ডাচরাও। এর মধ্যে মেসির একটি দারুন ফ্রি কিকসহ দলের কয়েকটি সংঘবদ্ধ আক্রমন আটকে দেয় ডাচ গোল রক্ষক। তবে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে হিগুইন ডাচদের জালে একবার বল পাঠালেও বিতর্কিত এক অফসাইড সিগনালের কারণে গোলটি দেয়া হয়নি। অবশ্য রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেছে কোন প্রকারের অফ সাইড ছিলনা। পুরো খেলার মধ্যেই বেশ কিছু সুযোগ পেয়ে জোড়ালো শটও করেছে উভয় দলই। কিন্তু কোন সফলতা আসেনি কোন পক্ষেই।
এর মধ্যে বৃষ্টি ভেজা এ ম্যাচের ১৫ মিনিট চলাকালে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লিওনেল মেসির চমৎকার ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক ইয়াসপার সিলেসেন। এরপর ৩২ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের প্রথম সুযোগটি তৈরি হয় কর্নার থেকে। বাঁ দিক থেকে ভেসলি স্নেইডারের কর্নার ফিস্ট করে ফেরান সের্হিও রোমেরো। ফিরতি বলে গালতাসারই মিডফিল্ডারের ক্রস এগিয়ে এসে ফিরিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বাঁ প্রান্তে মার্কোস রোহোকে চমৎকার একটি পাস দিয়েছিলেন মেসি। ডি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন হিগুইন। কিন্তু রোহোর ক্রস তার মাথার অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। ৫৮ মিনিট চলাকালে আর্জেন্টিনার ভালো একটি সুযোগ আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন স্টেফান ডা ভ্রেই। ডান দিক থেকে লাভেস্সির ক্রস ডি বক্সে হিগুইনকে খুঁজে পাওয়ার আগেই ফিরিয়ে দেন ফেইয়েনুর্ডের ডিফেন্ডার।
আবার ম্যাচের ৭৫ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পান হিগুইন। এনসো পেরেসের ক্রসে ডি বক্সের ভেতরে পা লাগাতে পারলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। এরপর যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনাকে ভীষন বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন হাভিয়ের মাসচেরানো। স্নেইডারের ডিফেন্স চেরা ব্যাক হিল ডি বক্সে ছুটে এসে নিয়ন্ত্রণে নেন এরিয়েন রোবেন। শট নিতে একটু দেরি করেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা ততক্ষণে মাসচেরানো দৌঁড়ে এসে তার শটে পা ঠেকিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন দলকে। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও কেটে গেলো একইভাবে গোলশূন্য অবস্থায়। ফলে খেলা গড়ায় টাই ব্রেকারে।
প্রসঙ্গত দীর্ঘ ২৪ বছর পর কাঙ্ক্ষিত ফাইনালের প্রত্যাশায় রেড ডেভিলস খ্যাত ডাচদের মুখোমুখি হয় এবরের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশি আর্জেন্টিনা। অপরদিকে গতবারের ফাইনালিস্ট অর্থাৎ ডিফেন্ডিং রানার্স আপ নেদারল্যান্ডস এবারও ফাইনালে গিয়ে শিরোপার না পাওয়ার আক্ষেপ ঘোচাতে মরিয়া হয়ে লড়ে। অবশ্য ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ডাচদের হারিয়েই প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলার সুখ স্মৃতি রয়েছে আর্জেন্টিনার। কিন্তু কারো কোন সমীকরণ বা সম্ভাবনাই শেষ পর্যন্ত কোন দল কাজে লাগাতে পারেনি। অবশেষে নিষ্পত্তি হলো টাই ব্রেকারেই।