• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আজ কবি আল মাহমুদের ৭৯তম জন্মদিন

Al mahamudঢাকা : আজ ১১ জুলাই। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের ৭৯তম জন্মদিন। ফুলে ফুলে ও ভালোবাসায় সিক্ত করে পালিত হচ্ছে তার জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রামের মোল্লা বাড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য কবি আল মাহমুদ আজ অপরিহার্য। বাংলা সাহিত্যে তার আগমন আশীর্বাদ  হয়ে দেখা দেয়। দেশ, কাল, জাতি, মানুষ, প্রকৃতি, গৌরব ইতিহাস সবই এক সমান্তরাল হয়ে তার আগমন প্রত্যক্ষ করে।

অসংখ্য কালজয়ী কবিতার কবি আল মাহমুদ। কবিতা তাকে যশ খ্যাতি এনে দিয়েছে। তিনি কবিতাকে দিয়েছেন তার অহঙ্কারে অলঙ্কারাবদ্ধ আবেগতাড়িত হৃদয়।

বলা যায় কবিতা দিয়েই সাজিয়েছেন তিনি নিজের জীবনকে। কবিতার মধ্যেই পেয়েছেন আনন্দ, প্রেম, ভালোবাসা, খ্যাতি, মোহ। এর মধ্যেই তিনি সুখ খুঁজেছেন এবং পেয়েছেন। সুখের সন্ধানে এই কবিতার জন্য তাকে দুঃখকে সঙ্গী করতে হয়েছে। কবিতার জন্য পালিয়েছেন এলাকা ছেড়ে, কবিতার জন্য লক্ষ্যচ্যুত হবার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। কবিতার জন্য ধর্মান্ধরোষের থেকে ক্ষণিকের জন্য পাড়ি দিতে হয়েছে বিদেশ পর্যন্ত।

১৯৬৮ সালে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সোনালি কাবিনের সনেটগুচ্ছ লেখা শুরু হয়। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। চারদিকে সাড়া পড়ে যায়। তবে তিনি তার অনেক আগেই, সেই সনেটগুচ্ছ লেখার সময়কালে, ১৯৬৮ সালে কালের কলস কাব্যগ্রন্থের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা করেছেন। প্রুফ রিডার থেকে হয়েছেন দৈনিকের ডাকসাইটে সম্পাদক। জেলও খেটেছেন। চাকরি করেছেন শিল্পকলা একাডেমিতে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় জীবিকার সন্ধানে তাকে বিভিন্ন ধরনের চাকরিও করতে হয়েছে। ভাষার ওপর কবিতা লিখে গ্রেফতারির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে পালিয়েছিলেন। আবার মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন সক্রিয়ভাবে।

তার শতাধিক গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- কবিতা : লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালি কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, প্রহরান্তরের পাশ ফেরা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, মিথ্যেবাদী রাখাল, আমি দূরগামী, বখতিয়ারের ঘোড়া, দ্বিতীয় ভাঙন, নদীর ভেতরে নদী, উড়াল কাব্য, বিরামপুরের যাত্রী, না কোনো শূন্যতা মানি না প্রভৃতি। ছোটগল্প : পান কৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবনিক, ময়ূরীর মুখ প্রভৃতি।

উপন্যাস : কাবিলের বোন, উপমহাদেশ, পুরুষ সুন্দর, চেহারার চতুরঙ্গ, আগুনের মেয়ে, নিশিন্দা নারী প্রভৃতি।

শিশুতোষ : পাখির কাছে ফুলের কাছে, একটি পাখির লেজ ঝোলা।

প্রবন্ধ : কবির আত্মবিশ্বাস, কবির সৃজন বেদন, আল মাহমুদের প্রবন্ধ সমগ্র।

ভ্রমণ : কবিতার জন্য বহুদূর, কবিতার জন্য সাত সমুদ্র প্রভৃতি। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে আল মাহমুদ রচনাবলী, কবিতা সমগ্র-১, ২ উপন্যাস সমগ্র-১, ২, ৩।

তার প্রাপ্ত পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), জয়বাংলা পুরস্কার (১৯৭২), হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), সুফী মোতাহার হোসেন সাহিত্য স্বর্ণপদক (১৯৭৬), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (১৯৮৭), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০), সমান্তরাল (ভারত) কর্তৃক ভানুসিংহ সম্মাননা পদক- ২০০৪, কবি গোলাম মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন পুরস্কার (২০০৬) প্রভৃতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ