আব্দুর রাজ্জাক, ডিমলা (নীলফামারী) : নীলফামারীর ডিমলায় মাটির তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনাকে আমলে নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। অপর দিকে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের দায়ভার গ্রামের নিরীহ মানুষের কাদে চাপিয়ে দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা হচ্ছে একাধিক মামলা।
প্রাপ্ত সূত্রমতে, ব্যক্তি মালিকানাধিন জমিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে ডিমলা উপজেলার দক্ষিন খড়িবাড়ী গ্রামের জনৈক আব্দুল খালেক(রীট দরখাস্ত নং ১৯০৩/২০১৪ইং), দক্ষিন বালাপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম(রীট দরখাস্ত নং ১৯০৪/২০১৪ইং) দক্ষিন খড়িবাড়ী গ্রামের আমীর আলী(রীট দরখাস্ত নং ১৯০৫/২০১৪ইং) গত ৩০/০১/১৪ইং সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে(বিশেষ আদিম এখতিয়ার) পৃথক ৩টি রীট আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষীতে মহামান্য আদালত গত ২৩/১২/১৩ইং তারিখ হতে পরবর্তি এক বছরের জন্য ডিমলা উপজেলার দক্ষিন খড়িবাড়ী মৌজার ১.০০(এক) একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে শর্তসাপেক্ষে নুড়ি পাথর উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করেন। শর্তের রয়েছে যে, বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ অপারেশন শাখা-২ এর স্বারক নং-জ্বাখসবি/অপা-২/৪/৪/২০০৮/৬৮৯,তারিখ ০৯/১১/২০০৯ খ্রিঃ মন্ত্রিসভা বৈঠকের নির্দেশনা মোতাবেক তা বাস্তবায়ন করতে হবে। উল্লেখ্য যে, গত ০২/১১/২০০৯ তারিখ সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে পরিবেশ বিষয়ক দুটি আইনের নীতিমালা অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে পাথর উত্তোলনের সময় কোন মেশিন বা যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবেনা। দেশীয় অযান্তিক(সনাতন) পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখার দিক-নির্দেশনা থাকার পরেও রীট আবেদন কারী আঃ খালেক, জাহিদুল ইসলাম ও আমীর আলী মোটা অংকের টাকায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আদালতের দেয়া শর্ত তথা প্রধান মন্ত্রীর দিক-নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ডিমলা উপজেলার দক্ষিন খড়িবাড়ী মৌজার পরিবর্তে তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকা ভাসানীর চর, কিসামত ছাতনাই, পাগল পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অযান্ত্রিক (সনাতন) পদ্ধতি (হুছি কোদালের) পরিবর্তে প্রায় শতাধিক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ভারী বোমারূ মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন করে আসছে। এখানে প্রধান মন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন নিরব!
অপরদিকে আদালতের অনুমতির ছাড়াই একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেশের সর্ববৃহত সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫টি পয়েন্টে গড়ে ৩৫টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পুন্ন ভারী বোমা মেশিনের সাহায্যে নুড়ী পাথর উত্তোল করে আসছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ মাঝে মধ্যে পত্রিকায় প্রকাশ হলে প্রশানের কর্তা ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের প্রতি নাখোশ হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের দায়ভার গ্রামের নিরীহ মানুষের কাধে চাপিয়ে দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করছে একাধিক মামলা। উল্লেখ যে, এপ্রিল মাসে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে ডিমলা উপজেলার ৭ বিজিবি বার্নিরঘাট সীমান্ত ফাঁড়ীর নায়েক মোতাহার(৪৯৭৪৫) বাদী হয়ে এলাকার নিরীহ ১৩ দিন মজজুরের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলা করেন। মামলা নং-৩,তারিখ: ০৪/০৪/১৪ইং। নিরীহ দিন মজুরদের আসামী করার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবীতে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসুচী চলে দিনের পর দিন। এমতাবস্থায় পাথর উত্তোলনের তথ্য সাংবাদিকদের কাছে দেয়ার সন্দেহে ডিমলা থানার (ওসি) শওকত আলী ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকৃত আসামীদের আড়াল করে এএসআই মাহাবুবকে বাদী করে উত্তর খড়িবাড়ী ভাসানীর চরের মৃত সহির উদ্দিনের ছেলে আইয়ুব আলী ও বেল্লাল হোসেনের পুত্র আব্দুস ছালামসহ অজ্ঞাত ১০/১২জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অপর একটি মামলা দায়ের করান। মামলা নং-৪,তারিখ: ০৫/০৭/১৪ইং। এ ব্যাপারে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী বলেন, কোন নিরীহ মানুষের নামে মামলা করা হচ্ছে না। হাই কোর্টে রীট আবেদনকারীরা পাথর উত্তোলনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা না মানার বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এব্যাপারে ডিসি স্যারের সাথে কথা বলেন।