লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকায় দুপুরে ফসলি জমি চাষে বাঁধা দিতে গিয়ে অপর পক্ষের হামলায় এক হিন্দু পরিবারের মা-ছেলেসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রয়নে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকার মৃত দেবেন্দ্র চন্দ্র সেনের স্ত্রী পুষ্প বালা সেন(৪৬), ছেলে শ্যামল চন্দ্র সেন(৩০) ও কমল চন্দ্র সেন(২৪)।
এ ঘটনায় পুলিশ আবুল হোসেন গংয়ের এক নারীসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মালেক(৩৪) ও আমিনুর রহমানের স্ত্রী মনিরা বেগম(৩০)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানাগেছে, উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকার কদর উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আতিয়ার রহমান, রবিউল ইসলামএবং একই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত দেবেন্দ্র চন্দ্র সেনের ছেলে শ্যামল চন্দ্র সেন ও কমল চন্দ্র সেনের সাথে ২০০৩ সাল থেকে ১ একর ১৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৬১ শতাংশ ফসলি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার দুপুরে ট্রাকটর দিয়ে আবুল হোসেন গং ভোগদখলীয় জমি চাষ করতে গেলে শ্যামল, কমল ও তার মা পুষ্প বালা সেন বিতর্কিত ওই জমি নিজের দাবি করে বাঁধা দিতে গেলে আবুল হোসেন গং ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে পুষ্প বালা সেনসহ দুই ছেলে গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী অহতদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে ।
বাউরা হোসনাবাদ-সফিরহাট এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুনীল চন্দ্র সেন জানান, ‘আবুল হোসেন গংয়ের ভোগদখলীয় ১ একর ১৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৬১ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই জমিতে আবুল হোসেনরা রোববার দুপুরে হালচাষ করতে গেলে বাঁধা দেয় শ্যামল চন্দ্র সেনরা। এ সময় শ্যামল চন্দ্র সেন, কমল চন্দ্র সেন ও তার মা পুষ্প বালা সেনকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে যখম করে আবুল হোসেনের লোকজন। এদের মধ্যে পুষ্প বালা সেনের মাথায় ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারণে তাকে আশঙ্কজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।’
পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) প্রণব কুমার দাস জানান, ‘আহত পুষ্প বালা সেনসহ দুই ছেলেই গুরুতর আহত। তাই তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘বাউরা হোসনাবাদ এলাকার আবুল হোসেন গংরা ভোগদখলীয় জমিতে হালচাষ করতে গেলে শ্যামল চন্দ্র সেন গংরা বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল হোসেনের লোকজন শ্যামল চন্দ্র সেনের ভাই ও মাকে বেদম মারপিট করে গুরুতর যখম করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’