সিসিনিউজ: যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মিরাজ-৪ ও এমভি শাতিল-১ দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে কমিটিতে বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ ও একজন গণমাধ্যমকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, পবিত্র ঈদুল ফিতরে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
সোমবার এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে দুটি লঞ্চডুবির ঘটনায় ৭৭ জনের মরদেহ উদ্ধার ও দুই শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি প্রায় এক মাস আগে প্রতিবেদন জমা দিলেও তা প্রকাশ করা হয়নি।
তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুটি প্রতিবেদনেই মূল অভিযুক্তদের আড়াল করে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। এ ছাড়া, এমভি শাতিল-১ দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হলেও এখন তাকে পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে। তাই ওই প্রতিবেদন দুটি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় এবং দুটি তদন্ত কমিটির সদস্যরাই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি না পেলে নৌপথে দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়তে থাকবেও বলে বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিদাতারা হলেন : প্রবীণ রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্য ও মনজুরুল আহসান খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, নৌ-সড়ক-রেলখাত রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক আশীষ কুমার দে, বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান তুসার রেহমান, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, সাবেক সাংসদ তাসনিম রানা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম এ সবুর ও ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান।
গত ১৫ মে শরীয়তপুরের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে এমভি মিরাজ-৪ ডুবির ঘটনায় ৫৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও দুই শতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাদের স্বজনেরা দাবি করেছেন। এর ১২ দিন আগে ৩ মে পটুয়াখালীর গলাচিপায় রামদাবাদ নদীতে এমভি শাতিল-১ দুর্ঘটনায় ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।