পাবনা: প্রায় তিন যুগ পর বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার পৈতৃক বাড়ি দখল মুক্ত করা হয়েছে। বুধবার এ বাড়িটি দখলে নেন জেলা প্রশাসন কর্মকর্তারা। এটা জামায়াত নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এবং ইমাম গাজ্জালি ইনস্টিটিউট নামে সেখানে একটি স্কুল পরিচালনা করতেন তারা। এর আগে এটি দখলে পেতে চেষ্টা চালালেও আইনি জটিলতায় তা বার বার বাধাপ্রাপ্ত হয়। অবশেষে গত ১০ই জুলাই সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হলে রায়ের ভিত্তিতে বাড়িটি দখলমুক্ত করা হয়। গোপালপুরের হেমসাগর লেনের এই বাড়িতেই কেটেছে মহানায়িকার শৈশব ও কৈশোর। পাবনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সপরিবারে পশ্চিম বাংলায় পাড়ি জমান তিনি। এরপর ১৯৮৭ সালে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বাড়িটি ইজারা নেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা। পরে জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত করে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ সালে বাড়িটে ফিরে পেতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই বছরের ২৬শে জুলাই বাড়িটি পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের দখলে নেয়ার নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। পরে ইমাম গাজ্জালি ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মাওলানা আইয়ুব হোসেন খাঁন হাই কোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে লিভ টু আপিল করেন। এ বছরের ৪ মে ওই লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে যায়।