• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

তবুও নির্বাচনের প্রস্তুতি

BNP Flagসিসি ডেস্ক: নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুত হচ্ছে বিএনপি। তৈরি করা হচ্ছে দলীয় প্রার্থীর তালিকা। নির্বাচনের কোনো আবহ সৃষ্টি না হলেও আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা হাতে রাখতে চাচ্ছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া- যাতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বেগ পেতে না হয়। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে ছোট-বড় সব দলকে সঙ্গে নিয়ে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে ঈদের পর সরকারের বিরুদ্ধে ‘ডু অর ডাই’ আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, স্বল্প সময়ের ব্যধানেই নির্ধারণ হতে পারে নির্বাচনের সময়সূচি। আর সেজন্যই চেয়ারপারসনের নির্দেশে এমন প্রস্তুতি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নয়, জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন তীব্রতর করব। ঈদের পর আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু হবে। আন্দোলন, নির্বাচন প্রস্তুতি ও সংগঠন গোছানো- এ তিন কাজ একই সঙ্গে চলছে। বিএনপিতে সংগঠন গোছনোর কোনো তৎপরতা এখনও দৃশমান হয়নি; বরং বন্ধ হয়ে গেছে জেলা কমিটি গঠনের উদ্যোগ। ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও স্বল্প এ সময়ের মধ্যে সংগঠন গুছিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলেই মনে করেছেন দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী। তাদের মতে, চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে সবার আগে বিএনপির সামনে প্রধান কাজগুলো হচ্ছে কাউন্সিল সম্পন্ন করে দল পুনর্গঠন করা, যাতে হতাশা কাটিয়ে নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। কারণ ভয়-আতঙ্ক থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। মহানগর কমিটি শক্তিশালীকরণ, কেন্দ্রীয় নেতাদের সক্রিয় করে তোলা, দলের সিনিয়র নেতাদের নামে একাধিক মামলার সুরাহা করা, তৃণমূলে ক্ষোভ প্রশমন, শরিক দলগুলোকে আরও সক্রিয় রাখা এবং ক্ষুব্ধ সমমনা দলগুলোকে আস্থায় আনা- এসব বিষয়ে সুরাহা না হলে আন্দোলন আবার মাঠে মারা যাবে বলে বদ্ধমূল ধারণা দলের তৃণমূল নেতাদের। আন্দোলনের পাশাপাশি গোপনে প্রার্থী তালিকা তৈরির জরিপসহ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও শুরু করেছে বিএনপি। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিবেচনায় এগিয়ে থাকাদের নাম জরিপ রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। চলতি মাস থেকে জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। চেয়ারপারসনের আস্থাভাজন কয়েক নেতাকে একান্ত গোপনে এ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। খালেদা জিয়া বলেছেন, যে কোনো সময় নির্বাচনের ঘোষণা হতে পারে। এজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি রাখতে হবে। প্রস্তুতি না থাকলে সময় স্বল্পতায় সঠিক প্রার্থী বাছাই সম্ভব না-ও হতে পারে। প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় নেতাদের পারফরম্যান্স যাচাই করে দুই থেকে তিনজন করে প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের মাধ্যমে বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রার্থী তালিকা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এক্ষেত্রে শরিক দলগুলোর বিষয়টিও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সূত্রমতে, আগামী দুই মাসের মধ্যে এ জরিপের কাজ শেষ হবে। এতে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের দলের বর্তমান পদ-পদবির পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে দলের পক্ষে ভূমিকা, এলাকায় জনসম্পৃক্ততা ও মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তা, আর্থিক সচ্ছলতা ও বিগত দিনের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড (এ পর্যন্ত কতবার দলবদল করেছেন_ সে বিষয়টিও) জরিপের রিপোর্টে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। আসনভিত্তিক জরিপে নবম জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের এলাকায় বর্তমান অবস্থা কেমন, তা তুলে ধরা হচ্ছে। এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের কাছে কোন নেতার গ্রহণযোগ্যতা কেমন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে রিপোর্টে তুলে আনা হচ্ছে। জরিপের ভিত্তিতেই জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিবেচনায় শীর্ষে থাকা তিন মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম রিপোর্টের উপরের দিকে থাকবে। তবে অন্য যেসব নেতা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী বা আলোচনায় আছেন, এমন নেতার নামও রিপোর্টে সনি্নবেশিত হবে। সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে জরিপে।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বিশ্বাস, কোনো এক পর্যায়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে বাধ্য হবে ক্ষমতাসীনরা। দাবি আদায়ে প্রাণপণ চেষ্টার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিএনপি।

এদিকে বিএনপি আগামী নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে সংলাপে বসার জন্য সরকারকে তাগিদ দিচ্ছে। সম্প্রতি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ আগাম নির্বাচনের জন্য যে কোনো সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসতে বিএনপি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সুরে কথা বলছে আন্তর্জাতিক মহলও। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দাবি করেছিলেন, যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকারের ওপর পশ্চিমাদের আস্থা বেশি। কিন্তু মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা সরাসরি বলছেন, বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ইইউভুক্ত ২৮টি দেশ এখনও আগের অবস্থানেই রয়েছে। তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আবারও জাতীয় সংসদের বাইরের দলগুলোর সঙ্গে সরকারকে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে লন্ডনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কমনওয়েলথের মহাসচিব কমলেশ শর্মাও বলেছেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা থাকা উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার বলেছে, বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংলাপে বসে সব রাজনৈতিক দলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে নতুন নির্বাচনের বিষয়ে। বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বজায় থাকলেও চীন এবং জাপানের রাষ্ট্রদূতও ঢাকায় সাংবাদিকদের কাছে ৫ জানুয়ারির ব্যাপারে তাদের দেশের পূর্বোক্ত অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন। তবে সংলাপের বিষয়টি আমলে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। পাত্তা দিচ্ছে না বিরোধী জোটের কোনো হুশিয়ারি-হুঙ্কার; বরং বিএনপির হুমকিকে ‘আষাঢ়ের গর্জন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তারা। বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি ঈদের পর আন্দোলন করবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছে, সে ঈদ বাংলাদেশে কখনও হবে না। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সরকারকে বৈধতা দিলেই সংলাপ হতে পারে। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সংলাপের কোনো সুযোগ নেই।

‘সংলাপে সমঝোতা অথবা আন্দোলনে নির্বাচন’- এ থিম নিয়ে এবার ‘ডু অর ডাই ম্যাচ’ খেলতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যার নাম দিয়েছেন ‘মিশন অলআউট’। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা না জানলেও ঈদের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি। তবে এবারের আন্দোলনের প্রস্তুতির প্রক্রিয়া গতানুগতিক ধারার বাইরে। নয়াপল্টন কিংবা গুলশান অফিসের কর্মকর্তাদের অনুগত কমিটির কোনো নেতাকে এবার দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এমনকি দলের ভারপ্রপ্ত মহাসচিব পর্যন্ত আন্দোলনের এ প্রস্তুতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে সারা দেশে বিকল্প এক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ, এমনকি ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আন্দোলনের নির্দেশনা প্রদানসহ যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের কাছে পাঠানো বার্তায় তারেক রহমান ঈদের পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত সরকার পতনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য জোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আপনারা প্রস্তুতি নিন।

এদিকে পবিত্র ওমরা ও মসজিদে নববিতে এতেকাফের উদ্দেশে সৌদি আরব যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সৌদি বাদশার রাজকীয় অতিথি হিসেবে সে দেশটি সফর করবেন তিনি। একই সঙ্গে সেখানে লন্ডন থেকে আসবেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়া থেকে আসছেন আরাফাত রহমান কোকো। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর টেলিফোন বা ব্যক্তিবিশেষের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও এবার সরাসরি বৈঠক হবে পুরো পরিবারের মধ্যে। এতে সাংগঠনিক বিষয়সহ আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম স্থান পাবে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছেন বৈঠকের দিকে। ওই বৈঠক থেকে প্রত্যাশিত সব জবাব মিলবে বলে আশাবাদী বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। উৎসঃ   আলোকিত বাংলাদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ