সিসি ডেস্ক: উত্তরের শস্যভাণ্ডার দিনাজপুরে সবজি চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লাভজনক ফসল হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সবজি সঙ্গে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষক। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই কৃষক বিষমুক্ত বেগুন আবাদ করছেন।জৈবিক বালাই দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের সাহায্যে রমজান মাসে বেগুন চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
এক সময়ের বেকার শিক্ষিত যুবক তোফায়েল সেক্স ফেরোমন পদ্ধতিতে তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। আগামীতে তিনি আরও জমিতে একই পদ্ধতিতে বেগুন লাগাবেন। এ পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করায় তার ক্ষেতে পোকায় আক্রমণ করতে পারেনি। বরং পেয়েছেন আশাতীত ফলন।
তোফায়েলের সাফল্য দেখে এখন রমজান মাসে এলাকার অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জমির মধ্যে ছোট ছোট খুঁটি পুঁতে তাতে প্লাস্টিকের বয়াম দু’পাশে কেটে ঝুলিয়ে রেখে তার মধ্যে দেয়া হয়েছে সাবান পানি। বয়ামের এই সাবান পানির গন্ধে স্ত্রী পোকাগুলো পুরুষ পোকাকে প্রজননের জন্য আহ্বান জানান। এবং স্ত্রী-পুরুষ পোকাগুলো সে সময় বয়ামে ঢুকলে সাবান মেশানো পানিতে পড়ে মারা যায়। এ কারণে এ বেগুনের ফসলি জমিতে স্প্রে করতে হচ্ছেনা কীটনাশক।
জৈবিক বালাই দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদের সাহায্যে বিষমুক্ত বেগুন চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।
কৃষিবিদ আনোয়ারুল আলম জানান, এক সময়ের অনাবাদি পতিত এসব জমিতে বেগুন চাষ করে যেমন জেলায় সবজি উৎপাদন বাড়ছে। তেমনি উৎপাদিত হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই বিষমুক্ত সবজি। একদিকে যেমন কম খরচে আবাদ করে কৃষকরা হচ্ছেন লাভবান। অন্যদিকে ক্রেতারা পাচ্ছেন বিষমুক্ত সবজি।
সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বসিয়ে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাই কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং বেগুনের ন্যায্য মূল্য পেলে এ অঞ্চলে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করতে কৃষকরা আরও এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন কৃষিবিদরা।