দিনাজপুর প্রতিনিধি: জেলার ঘোড়াঘাটে যৌতুকের জন্য শাপলা বেগম (২১) নামে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা করেছে পাষন্ড স্বামী এবং শাশুড়ী। গত শুক্রবার রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলার চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর (ওসমানপুর) গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত গৃহবধূর পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গত প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়ার সাকোপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম’র মেয়ে শাপলার বিয়ে হয় জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর (ওসমানপুর) গ্রামের ডা. এমাজ উদ্দিনের ছেলে হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ আশরাফুলের সাথে। বিয়ের সময় আশরাফুলকে যৌতুক বাবদ নগদ এক লাখ টাকা, একটি ডিসকভার ১৩৫ সিসি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩ লাখ টাকার যৌতুক দেয়া হয়। কিন্তু, বিয়ের এক বছর পার হতে না হতেই স্বামী শ্বাশুড়ী শাপলাকে আরো টাকার জন্য চায় দেয়। এ নিয়ে তার উপর নির্যাতন করা হয়। গত এক বছর আগে আশরাফুলকে যৌতুক হিসেবে আরো এক লাখ টাকা দেয়া হয়। তার পরও স্বামী আশরাফুলের মন ভরেনি। স্বামীর চাপের মুখে বাধ্য হয়ে গত সোমবার আবার এক লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার তার বাবার বাড়ী হতে এনে দেয়। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আশরাফুল আবারো এক লাখ টাকা আনার জন্য স্ত্রী শাপলাকে চাপ দেয়। তাতে শাপলা রাজি না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতন সইতে না পেরে সে শাপলা পাশ্ববর্তি গ্রামে তার খালার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সে তার স্বামীর বাড়িতে এলে ইফতারের পূর্বে পাষন্ড স্বামী ও শাশুড়ী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গেটের বাইরে ফেলে রেখে স্বামী ও শ্বাশুড়ী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা গৃহবধূ জানতে পেরে শাপলাকে উদ্ধার স্থানীয় ঘোড়াঘাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
শনিবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মেয়ের বাবা আব্দুস ছালাম বাদী হয়ে শাপলার স্বামীসহ ৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।