রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাক্ষুসী তিস্তায় প্রবল ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিদ্যানন্দ ইউপি’র মন্দির, পাড়ামৌলা এলাকায় আবারও নতুন করে ৩০টি পরিবার, আদর্শ গ্রামের এক মাস পূর্বে দেয়া পল্লী বিদ্যুতের সংযোগের ৩টি খাম্বাসহ প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ রাস্তাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে ওই এলাকার প্রায় ২২ হাজার মানুষের যাতায়াতে প্রতি নিয়ত চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে ৩টি বেরী বাঁধ বিলীন হওয়ার ফলে ওই এলাকার আদর্শ গ্রামের মৎস্য খামার ও পাড়া মৌলা এলাকার নূর মোহাম্মদের প্রায় ৭ একর জমির মৎস্য খামারটি ডুবে যাওয়ায় প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে শনিবার পর্যন্ত ওইসব এলাকায় কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে ভাঙ্গন কবলিতদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউপি’র পাড়ামৌলা ও মন্দির এলাকার আদর্শ গ্রামের ১১টি পরিবারসহ আশে-পাশের ৩০টি পরিবার গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদী গর্ভে চলে গেছে। তাদের একমাত্র চলাচলের বাঁধ রাস্তাটি গত তিন দিনে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ফলে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপিসহ দু’টি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে তাদের একমাত্র বাহন নৌকা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙ্গনের শিকার মন্দির এলাকার আব্দুল বাতেন (৪৫), আশরাফুল (৪০), মজিবর (৩২), আব্দুল করিম (৫৫), শাহ আলম (৩৫), শফিকুল (৩০), আবু (৫৫), আব্দুল জব্বার (৬২), কাছিম পাগলা (৬৫), আব্দুল আজিজ (৪৫), বাছিরন (৬০), পাড়ামৌলা এলাকার মহেন্দ্র নাথ (৭৫), তিনু মাষ্টার (৫৫), ঝড়– (৬০), সুনিল (৫৫), বেবী বালা (৭০), আব্দুল বাতেন (৭০), আব্দুল মজিদ (৫৫) সহ ৪১টি পরিবার বর্তমানে সবকিছু হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙ্গন কবলিতদের আকুতি গত দু’সপ্তাহ ধরে নদীর প্রবল ভাঙ্গন দেখা দেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি-আধাসরকারি এমনকি কোন এনজিও ওইসব পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নেননি। মাঝে মধ্যে তোমরা সাংবাদিকগুলা ছাড়া হামার গুলার কেউ দুঃখের সঙ্গী হবার চায় না। তোমরাগুলা এবার বড় বড় করি হামার গুলার দুঃখ কষ্টের কথা লেখিয়া সরকারের এমপি-মন্ত্রীকে জানান। হামরা গুলা আর ইলিপ চাইনা, নদী ভাঙ্গা থাকিয়া রেহাই চাই। এই কথাগুলো কান্না জড়িত কন্ঠে বললেন আদর্শ গ্রামের আবাসন প্রকল্পের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন (৪৫)। সবমিলিয়ে বাঁধ রাস্তাটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর থেকে নদীর তীববর্তী লোকজনের বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং তিনি বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষকে অনতি বিলম্বে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, ভাঙ্গন রক্ষার্থে বার বার মন্ত্রণালয়ে ফাইলপত্র নিয়ে যোগাযোগ করছি। কিন্তু বাজেট না আসলে কি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২ (রাজারহাট উপজেলা, কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ আলহাজ্ব মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিক তাঁর মুঠোফোনে (০১৮১৯২৫৪৪০০) যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।