সিসিনিউজ: আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে সেখানে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৪৮,১৩০ জন। ২০২০ সালে এটা ১ লক্ষে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩.৮ মিলিয়ন ক্যাথলিক জনগোষ্ঠির মধ্যে মাত্র ৩৪ ভাগ সাপ্তাহিক প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করে থাকে এবং বেশিরভাগ মানুষই ধর্ম থেকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু একটা ক্ষুদ্র অংশ ইসলামিক বিশ্বাস ও চর্চায় তাদের শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন।
প্রতিবছর প্রায় ৫০০ জন আইরিশ ইসলাম গ্রহণ করছেন। ইসলাম গ্রহণ করতে কোন দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করতে হয় না। দুজন স্বাক্ষীর সামনে শুধু কালিমা পড়লেই হয়।
পুরুষদের চেয়ে নারীদের ইসলাম গ্রহণের হার বেশি। বেশিরভাগ ধর্মান্তরের ঘটনাই প্রধানত বিয়ে বিষয়ক। অথবা বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে মানুষ ইসলামে ধর্মান্তরিত হচ্ছে বা ফিরে আসছে। ইসলামিক বিশ্বাসে মনে করা হয় প্রত্যেকেই মুসলিম হয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারপর বিভিন্ন ধর্মে চলে যায়। এজন্য ইসলাম গ্রহণ মানে ইসলামে ফিরে আসা।
আয়ারল্যান্ডে মুসলিমরা হচ্ছে সবচেয়ে বর্ধমান জনগোষ্ঠি। আগামী বছর দেশটিতে সবচেয়ে বড় ইসলামিক কালচার সেন্টার নির্মাণ হচ্ছে। ডাবলিনের উত্তরাংশে ক্লংগ্রিফিন এলাকায় এটি নির্মাণ হবে। প্রত্যেক শহরেই মসজিদ এবং মক্তব রয়েছে। ফ্রান্সের চেয়ে আয়ারল্যান্ডের চিত্র ভিন্ন। কারণ এখানে মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পড়ে স্কুলে যেতে পারে।
নতুন ইসলাম গ্রহণকারী নারীদেরকে সহায়তা করার জন্য একটি সংস্থা আছে। আইরিশ মুসলিম নারীরা এটা পরিচালিত করে থাকে। ডাবলিনের ক্লনসকিয়াগ এ অবস্থিত ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে ড. আলি সালেম ইসলামিক শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
ড. সালেম বলেন, ‘যখন মানুষ ইসলামে ফিরে আসে তখন তারা ব্যাপক উৎসাহী থাকে। তাদেরকে আমরা ইসলামের সহজ শিক্ষা দিয়ে থাকি এবং তারা কিভাবে আস্তে আস্তে জীবন পাল্টাতে পারে এটা শিক্ষা দিয়ে থাকি।’
একজন নতুন ইসলাম গ্রহণকারীর কথা
আইশাহ কফিল্ড, বয়স ৩৬। তার আগের নাম ছিল লিজা। তিনি তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে বলেন, ‘আমি আইরিশ শহর ডাবলিনেই জন্মগ্রহন করেছি এবং বেড়ে উঠেছি। আমি ১২ বছর আগে ইসলাম নিয়ে আগ্রহী হই। সামাজিকভাবে আমার জীবনাচরণ সাধারণ আইরিশদের মত ছিল না। আমি নাইটক্লাবে যেতাম না এবং মদ্যপান করতাম না। আমি সবসময় ভাবতাম এমন কোন দল কি আছে যারা সাদাসিধা জীবন যাপন করে, এমন কোন বিশ্বাস কি আছে যেটা আমার জীবনধারার সাথে মেলে?
আমি এই ধাঁধাঁর জবাব খুঁজছিলাম। আমি সে পথেই ছিলাম। এখন শুধু সেটা গ্রহণ করেছি।’
সৌজন্যে: ইনডেপেনডেন্ট (আয়ারল্যান্ড)