প্রযুক্তি ডেস্ক: জীববিজ্ঞানীদের কাছ থেকে ‘ভালোবাসার টোকেন’ পেলেন মার্কিন পপ তারকা জেনিফার লোপেজ। পোর্তো রিকোয় সন্ধান পাওয়া নতুন জাতের এক জল-মাকড়সার (water mite) নাম রাখা হয়েছে তার নামে।
জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও জেনিফার লোপেজের সঙ্গে পোর্তো রিকোর সম্পর্কটা যে নাড়ির; তার মা-বাবা দুজনেই পোর্তো রিকান।
জল-মাকড়সা মাকড়সাদের নিকটাত্মীয়। মাকড়সার মতো এদেরও আটখানা পা; শরীরও নমনীয়। তবে বিশেষ গুণটি হলো, লার্ভা অবস্থায় এদের ছয়টি পা থাকে। লার্ভা থেকে পরিণত অবস্থায় পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ হাজার প্রজাতির ওয়াটার মাইট আছে। এই পরিসংখ্যানটাও বেশ পুরনো, ১৯৯১ সালের। কারণ, এই পোকাদের নিয়ে নিয়মিত কোনো গবেষণা হয়নি। ফলে সদ্য আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির ওয়াটার মাইট নিশ্চয়ই বিজ্ঞানীদের কাছে সমাদর পাবে। নামটাই তো অন্যদের চেয়ে তাদের একধাপ এগিয়ে রাখল। ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের থিম সং ‘উই আর ওয়ান’ (ওলে ওলা) গেয়ে বিশ্ব মাতিয়ে দেওয়া শিল্পীর নামে মাকড়সার নাম, লিটারাচনা লোপেজি- ভাবা যায়!
জেনিফার লোপেজের পৈত্রিক নিবাস পোর্তো রিকোয়, শুধু কি এই জন্যই জল-মাকড়সার নামটা লোপেজি? এই পোকার অন্যতম আবিষ্কারক ইউনিভার্সিটি অব মন্টিনিগ্রোর জীববিজ্ঞানী ভ্লাদিমির পেসিক বলেছেন, ‘এরকম বেখাপ্পা নামকরণের কারণটা খুবই সাধারণ। আমরা যখন নতুন জাতের এই ওয়াটার মাইট আবিষ্কার নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ লিখছিলাম, তখন জেনিফার লোপেজের গান ছেড়ে দিতাম। তার গান আমাদের কাজে অনুপ্রাণিত করেছে। এবং পাশাপাশি তার গান শুনে বিশ্বকাপ খেলাও উপভোগ করেছি আমরা।’
জল-মাকড়সা মূলত মিঠাপানির মাকড়। কিন্তু হালের বিজ্ঞানীরা সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানেও এই জল-মাকড়দের সন্ধান পাচ্ছেন। লোপেজিও তেমনি লোনা পানির মাকড়সা। পোর্তো রিকো দ্বীপকে হিসপানিয়োলা দ্বীপ (যেখানে গড়ে উঠেছে ডমিনিকান রিপাবলিক) থেকে আলাদা করেছে যে চ্যানেলটি সেই মোনা প্যাসেজের লোনা জলে পাওয়া গেছে এদেরকে। পোর্তো রিকো আর হিসপানিয়োলা দ্বীপের বিভেদরেখা কিংবা ক্যারিবীয় সমুদ্র আর আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনরেখা হলো মোনা প্যাসেজ।
এখানে সালোকসংশ্লেষী শৈবাল, স্পঞ্জ ও স্কেলারক্টিনিয় প্রবালের আধিক্য লক্ষ্যণীয়। কারণ এটি আলোকনির্ভর একটি বাস্তুসংস্থান। এমনকি এখানে ১০০ মিটার গভীরেও মিলে সালোকসংশ্লেষণের জন্য দরকারী আলোকরশ্মি।
ভ্লাদিমির পেসিক ছাড়াও তিন বিজ্ঞানী এই কীটের সহ-আবিষ্কারক। তাদের মধ্যে দুজন ইউনিভার্সিটি অব পোর্তো রিকোর বিজ্ঞানী; জীববিজ্ঞানী মোনিকা আলফারো এবং সমুদ্রবিজ্ঞানী নিকোলাস ভি সিজাস। অপরজন হলেন ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের ইন্ডিয়ান স্কুল অব লার্নিং এর জীববিজ্ঞানী তাপস চ্যাটার্জি।