• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ব্যাংকারদের কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে

Bankঅর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: ‘ব্যাংকারদের কারণেই ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে। কোনো কোনো ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না। আবার অনেক কর্মকর্তা ঋণখেলাপিদের নানাভাবে সহায়তা করছেন। এ কারণে খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বাড়ছে। দু-একটি অনিয়মের ঘটনা এ খাতের সব ভালো কাজকে ম্লান করে দেবে, তা হতে পারে না।’
সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সোমবার বৈঠক করে এসব কথা জানিয়ে অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, নিয়মশৃঙ্খলায় আর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বিবেচনায় শিল্পঋণের সুদ কমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একইভাবে ঋণগ্রহীতাকে না জানিয়ে সুদহার না বাড়ানো, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় থেকে বিরত থাকা, শিল্পঋণে সুদহার কমানো, সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনের আলোকে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং এক পরিবারের সর্বোচ্চ দুই পরিচালক হওয়ার বিধিবিধান পরিপালনের তাগিদও দেয়া হয়েছে প্রধান নির্বাহীদের।
বৈঠকে হলমার্কের অনিষ্পন্ন বিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সোনালী ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশের ফলে বহুল আলোচিত হলমার্কের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা দুই বছর বাড়ল বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের এক হাজার ৭৫৬টির মতো বিল এখনো বাকি আছে, যা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তিনটি ধাপে এ বিল পরিশাধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।  প্রথম তিন মাসে ৩০০, এর পর ছয় মাস অন্তর ৭০০ এবং সর্বশেষ বাকি ৭০০ বিল পরিশোধ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে যদি সোনালী ব্যাংক বিলগুলোর পাওনা পরিশোধ না করে, তবে প্রচলিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারবান্ধব করার আগাম বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের স্বাস্থ্য ঠিক রেখে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ যৌক্তিককরণ এবং ব্যাংকিং নিয়মাচার পরিপালন করে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বৈঠকে পুঁজিবাজারে ১৫ ব্যাংকের বিনিয়োগ রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাংকগুলোকে তাদের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে ফের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিনিয়োগ নামিয়ে আনতে হবে। কীভাবে ব্যাংকগুলো এ বিনিয়োগ কমিয়ে আনবে তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের বিষয়ে এর আগেও ব্যাংকগুলোর কাছে পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছিল। ব্যাংকগুলো সে পরিকল্পনা জমাও দিয়েছিল। কিন্তু ওই পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই ব্যাংকগুলোকে আরো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগ ২৫ শতাংশের অনেক কম রয়েছে, তারা নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের ঝুঁকি ঠিক রেখে আগামী মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারবান্ধব হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে গভর্নর ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পদ্ধতি শক্তিশালী করতে প্রধান নির্বাহীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা ঋণ দেয়ায় আরো সতর্ক হন। গুণ-মানের ঋণ প্রস্তাব পরিষদে পাঠান। পরিষদ অন্যায় চাপ দিলে তা প্রতিহত করার কৌশল অর্জন করুন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে ঋণশৃঙ্খলা শক্তিশালী করার জন্য সুশাসনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন। আপনারা অনিয়ম করে বসে থাকবেন আর বাংলাদেশ ব্যাংক পরে গিয়ে তা ধরবে, এটি হলে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে না। অনিয়ম ছোট হোক অথবা বড় হোক, তা আপনাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। এখন আর অনিয়ম করে কেউ পাড় পাবে না। আর্থিক  খাতের রেগুলেটর ও তদারককারী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জনগণের আস্থা অক্ষুন্ন রাখাই মূল বিষয়। এই আস্থা অটুট রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।’
ড. আতিউর রহমান আরো বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম হলেও বিভিন্ন উৎস থেকে বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ পাওয়ায় দেশীয় উৎস থেকে ঋণের চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বাজারে উদ্বৃত্ত তারল্য বিরাজ করছে। ব্যাংকের লাভজনক অবস্থা ধরে রেখে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির জন্যে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অতিরিক্ত তারল্যের চাপে অবিবেচনাপ্রসূত, অনুৎপাদনশীল ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ খাতে যাতে বিনিয়োগ প্রবাহিত না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ রাখা জরুরি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবিহিত করেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা না এলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধায়নে সোনালী ব্যাংকের স্বীকৃত বিলের দায় পরিশোধে সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ব্যাংকিং শিল্পকে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমলেও তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ব্যাংকের মূল সমস্যা তৈরি হয় খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে। এ জন্য তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে বাংকিং কার্যক্রম বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। অর্থনীতি প্রতিদিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ