ঢাকা: মামলার বেড়াজাল থেকে কিছুতেই বের হতে পারছেন না আরেফিন রুমি। আগামীকাল ফের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে হালের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত এই সঙ্গীতশিল্পীকে। তার বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রী লামিয়া আক্তার অনন্যার দায়ের করা এটি দ্বিতীয় মামলা। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করায় রুমিকে এ সমন দেয় ঢাকার একটি আদালত।
গত ৩০ এপ্রিল অনন্যা ঢাকার সিএমএম আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কেশব রায় চৌধুরী বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে গত ১৮ মে আরফিন রুমিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। মামলায় দ্বিতীয় বিয়ের কাজি মাওলানা কাজী মো. নাছির উদ্দিনকে মামলায় সাক্ষী করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামাও আদালতে দাখিল করেন তিনি। জানা গেছে, ১৮ মে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন রুমি। সেই মামলার পরবর্তী তারিখ আগামীকাল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অনন্যা বলেন, আগামীকাল আদালতে হাজির হয়ে রুমির জামিন নামঞ্জুরের আবেদন করবো। কারণ আগের মামলায় জামিন নিয়ে সে আমাদেরকে নানাধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনও করেছিলাম যেখানে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম।
২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল আরফিন রুমির সাথে বিয়ে হয় লামিয়া ইসলাম অনন্যার। ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের একমাত্র পুত্র সামস তাবরীজ আরিয়ানের জন্ম হয়। তার বয়স এখন ৪ বছর। মামলায় বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই রুমি লামিয়ার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবী করে আসছিল। সর্বশেষ ২০ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে রুমি অনন্য বিয়ে করার হুমকি দেয়। লামিয়া বলেন, রুমির চাহিদামতো যৌতুক না দেওয়ায় রুমি ২০১২ সালের ২৪ অক্টোবর আমেরিকা প্রবাসি জনৈকা কামরুননেসাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে।
অনন্যা আরও জানান, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য রুমি তার কিংবা সালিশি পরিষদের কোন অনুমতি নেননি। আর প্রথম স্ত্রী কিংবা সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশের ৬(৫)(বি) ধারার অপরাধ। এর আগে লামিয়ার দায়ের করা নারী ও শিশু মামলায় গত বছরের ১২ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলায় মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের নিজ বাসা থেকে ভাই এস এম ইয়াসিন রনিসহ গ্রপ্তোর হন রুমি। ওইদিন শর্ত সাপেক্ষে জামিন পান তারা।
ওই মামলায় স্ত্রী অনন্যা অভিযোগ করেন, ২০১২ সালে আমেরিকা প্রবাসী কামরুননেসাকে বিয়ে করেন রুমি। ওই বিয়ের কিছুদিন পরই দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান তিনি। পাশাপাশি বন্ধ করে দেন ছেলে ও প্রথম স্ত্রীর ভরণ-পোষণ। শুধু তাই না, আমেরিকা থেকে ফিরে ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে রুমি লামিয়াকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অনন্যা বলেন, অনেকেই মনে করেন রুমির দ্বিতীয় বিয়েতে আমার সম্মতি ছিল। অনেক পত্রিকায় আমাদের তিনজনের একসঙ্গে ছবিও ছাপা হয়েছে। কিন্তু এর পেছনের রহস্য অনেকেই জানেন না। অনেকটা ব্ল্যাকমেল করেই আমাকে চুপ করে রাখা হয়েছিল। সেই সময় সন্তান আরিয়ানকে তারা আমার কাছ থেকে সরিয়ে নেয়। বলা হয়, কাবিননামায় সম্মতি সই না দিলে আরিয়ানকে আর ফেরত পাবে না। এর পর বেশ কয়েক দিন আমাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল, কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এ রকম অনেক অজানা কাহিনীই রয়েছে, যা বলার মতো নয়। মুখ বুজে সহ্য করে গেছি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানার জন্য আরফিন রুমির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।