মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৮ শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫ শ’ মেট্রিক টন চাল। এ পর্যন্ত জেলার ১৩ উপজেলায় ৩৫ শতাংশ জমিতে আমন চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমন চারা রোপন করা হবে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানায়, দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৮ শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টরে উফশী, ১৫ হাজার ৫শ’ হেক্টরে স্থানীয় আমন ধান এবং ২ হাজার ৩ শ’ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫ শ’ মেট্রিক টন চাল।
গত আমন মৌসুমে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। কিন্তু মৌসুম শেষে লক্ষ্যমাত্রার অধিক ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল। অনূকুল আবহাওয়া ও কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারো লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে আমন আবাদের মাধ্যমে অধিক ফললের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল হান্নান জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ উপজেলার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর, চিরিরবন্দরে ২২ হাজার ১৩ হেক্টর, পার্বতীপুরে ২৫ হাজার ৭৪০ হেক্টর, বীরগঞ্জে ২৮ হাজার হেক্টর, বিরলে ২৫ হাজার ৫৬৬ হেক্টর, নবাবগঞ্জে ২০ হাজার ২১ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ১৬ হাজার ৬১৫ হেক্টর, বিরামপুরে ১৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর, খানসামায় ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কাহারোলে ১২ হাজার ৬শ’ হেক্টর, বোচাগঞ্জে ১৫ হাজার ৪৩০ হেক্টর, হাকিমপুরে ৮ হাজার ১ শ’ হেক্টর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১১ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হবে। গত ১০ জুলাই থেকে চলতি মৌসুমের আমন চারা রোপন কাজ শুরু করেছে কৃষকরা। আগামী ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত চারা রোপন কাজ চলবে।
চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের লক্ষে ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। উচু জমিতে কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করতে সেচ ব্যবস্থায় সেচ মেশিনগুলো চালু করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ধানের বীজ সরবরাহ করে কৃষকদের বীজতলা প্রস্তুত করতে পরার্মশ দেওয়া হয়। পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকরা এবার বীজতলা প্রস্তুত করে রেখেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যা হলে যাতে ধানের কোন রকম ক্ষতি না হয় এজন্য আমন ধানের চারা সরবরাহ করে রাখা হয়েছে।
দিনাজপুর বিএডিসি’র (সার) যুগ্ম পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, এবার চলতি মৌসুমে আমন চাষে পর্যাপ্ত পরিমানে সার সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার ১৩০ জন সার ডিলার ও ৩৯০ জন সাব ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। জেলার বাফার সার গোডাইনে রাসায়নিক ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, এসএসপি ও ড্যাব সার পর্যাপ্ত মজুদ রাখা হয়েছে। কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ পাবে। সারের সরবরাহ ব্যবস্থা মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।