• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ফের জোট ভাঙার খেলা

Dabaসিসিনিউজ: জোট রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ফের অস্বস্তি। প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটে চলছে টানাপড়েন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে দেখা দিয়েছে অবিশ্বাস। জোটের প্রধান শরিক বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে বাইরে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সময় অন্য একটি শরিক দলকে নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল জোটে। নির্বাচনের পর অনেকট চুপসে থাকা জোটের কার্যক্রম যখন চাঙা করার চেষ্টা ঠিক তখনই শুরু হয়েছে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র। ২০ দলের নেতারা অবশ্য দাবি করছেন সরকার পরিকল্পিতভাবে জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। কারণ সামনে বিরোধী জোটের আন্দোলন নিয়ে তারা ভীত। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়ার কারণে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এ জোটের শরিক দল এনপিপি। দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরস্পরকে বহিষ্কার করেছেন দল থেকে।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটেও বাড়ছে অবিশ্বাস এবং অস্বস্তি। সরকারের আগের মেয়াদের শরিক জাতীয় পার্টি সরকারের অংশ হলেও এখন আর সরকারি জোটের অংশীদার নয়। এখন জোট বলতে কাগজে কলমে আছে ১৪ দল ও আওয়ামী লীগ। কয়েকটি ছোট ইসলামী দলও এখন এ জোটের অংশীদার। গত নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে যাওয়ায় ১৪ দল ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা যোগাযোগ নেই দলটির। অন্যদিকে নিময় রক্ষার জন্য ১৪ দলের অন্য শরিকদের বৈঠক হলেও দলগুলোর মধ্যে দানা বাঁধছে অবিশ্বাস। ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ সরকারের অংশীদার হলেও অন্য ছোটদলগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। গত সরকারের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সাম্যবাদী দল ইতিমধ্যে দুই টুকরো হয়ে গেছে। দলটির একটি অংশ এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ। আনুষ্ঠাকিভাবে তারা ২০ দলে যোগ দিয়েছে।
বিগত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল জোট ভাঙার খেলা। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন শরিক দলগুলোকে নেয়ার চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ। দেয়া হয়েছিল লোভনীয় অফারও। এতে অনেকে প্রভাবিতও হয়েছিলেন। জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নজরদারিতে জোটে ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হয় তারা। এদিকে ঈদের পর ফের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আন্দোলনের কথা চিন্তা করে ফের জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ছোট শরিক দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। গত ১৭ই জুলাই গণভবনে রাজনীতিবিদদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন এনপিপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন নিলু। দলের নেতাদের না জানিয়েই গণভবনের ওই ইফতার পার্টিতে অংশ নেন তিনি। ১৮ই জুলাই দলীয় ফোরামে সভাপতির কাছে এর ব্যাখ্যা চান এনপিপির মহাসচিব ফরিদুজ্জামানসহ দলের সিনিয়র নেতারা। কিন্তু নিলু গণভবনের ওই ইফতার পার্টিতে অংশ নেয়ার বিষয়ে সদুত্তর না দিয়ে উল্টো মহাসচিবের ওপর ক্ষুব্ধ হন। প্রতিবাদ করায় মহাসচিবকে বহিষ্কার করেন নিলু। এরপর ২০শে জুলাই দলের প্রেসিডিয়ামে বৈঠকে শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করায় শওকত হোসেন নিলুকে বহিষ্কার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ফরহাদকে নিযুক্ত করা হয়। এনপিপির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মানবজমিনকে বলেন, দলের শৃঙ্খলা ভেঙে ১৭ই জুলাই গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার পার্টিতে অংশ নেন শওকত হোসেন নিলু। এছাড়া এটা জোটের শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তিনি জোট ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তাই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বৈঠক করে নিলুকে বহিষ্কার করে আমাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দলের নতুন মহাসচিব করা হয়েছে। এনপিপি’র এই সংকটের কারণে গত সোমবার ১৯ দলের মহাসচিব পর্যায়ের একটি ইফতার পার্টিও শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়। জানা গেছে, ওমরা পালনে সৌদি আরব যাওয়ার আগে বিএনপি চেয়ারপারসন মির্জা আলমগীরকে নির্দেশনা দিয়েছেন, ঈদের পর জোটের শরিকদের নিয়ে বসে এসব সমস্যার সমাধান করতে। এদিকে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতকে নিয়ে পরস্পরের মধ্যে বিরাজ করছে সন্দেহ আর অবিশ্বাস। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বিএনপি-জামায়াত স্বতন্ত্র কর্মসূচি পালন করছে। সর্বশেষ দলটির আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর যুদ্ধাপরাধের রায় পিছিয়ে যাওয়ায়ও সন্দেহ পোষণ করেন অনেকে। এও বলা হচ্ছে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে দলটির তরফে। যদিও জামায়াত বরাবরই এমন সম্ভাবনা নাকচ করে আসছে। কিছু দিন আগে জোটের বৈঠকে জামায়াত নেতাদের কাছেও সরকারের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে জানতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তখন জামায়াতের পক্ষে বলা হয়েছিল, সমঝোতার বিষয়টি অপপ্রচার। ৫ই জানুয়ারির পূর্বাপর দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন। লক্ষাধিক নেতাকর্মী জেলে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলটিতে এখন পুনর্বাসনের কাজ চলছে। গুছিয়ে ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় হবেন তারা। ২০ দলে অভ্যন্তরীণ সঙ্কট নেই দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জে. (অব.) আসম হান্নান শাহ বলেন, জোট ভাঙার আলোচনা অপপ্রচার। এমন আলোচনা বাস্তবতার বাইরে।
অন্য একটি সূত্র বলছে, জোটের কয়েকটি ছোট ছোট শরিক দৌড়ঝাঁপ করছে। এই দলগুলোসহ আরও কিছু দল বিএনপি জোটের বিপরীতে একটি পৃথক জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করতে চাচ্ছে। শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের রেখে যাওয়া ইসলামী ঐক্যজোট ও মাসিক মদীনা’র সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দিনের মেয়ের জামাতা এডভোকেট নূরুল ইসলামও সম্ভাব্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, ২০ দলের শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজাসহ আরও কয়েকটি ছোট দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়েও জোটে সন্দেহ বিরাজ করছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্রে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব মালেক চৌধুরীরকে নিয়ে আলোচনা হয় সেসময়। একতরফা ওই নির্বাচনে যাওয়ার সরকারের দলের টোপ গিলে ফেলেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে দলের চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করেন। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)ও ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে যেতে পারে। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অলি আহমেদকে ডেকে বৈঠক করেন। এবং তাকে নির্বাচনে অংশ না নিতে অনুরোধ করেন। এরপর অলি আহমদ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এদিকে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর মার্চে ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক সংবাদ সম্মেলন করে জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর দলের একটি বৃহৎ অংশ নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে বিএনপি জোটের সঙ্গে একীভূত হয়।
এদিকে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের রহস্যজনক আচরণের কারণে দল থেকে বেরিয়ে আসেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ। ২৫শে জানুয়ারি তিনি বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন ১৮ দলীয় জোটে। এতে ১৮ দলীয় জোট রূপান্তরিত হয় ১৯ দলে। এরপর ভাঙন দেখা দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক সাম্যবাদী দলে। দলটির সভাপতি দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বের হয়ে আসেন সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী। গত ২৮শে জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ দলে যোগ দেন তারা। এতে ১৯ দল রূপান্তরিত হয় ২০ দলে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৮ই এপ্রিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন বেগবান করতে বিএনপির নেতৃত্বে ৪ দলীয় জোট ভেঙে ১৮ দলীয় জোট গঠন করা হয়।
২০ দলে যখন এমন টানাপড়েন চলছে তখন ১৪ দলীয় জোটেও রয়েছে অস্বস্তি। এ জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মন্ত্রী হলেও অন্য শরিক দলের নেতাদের ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। নিয়ম রক্ষার বৈঠক ছাড়া জোটের সক্রিয় কোন কর্মসূচিও নেই। যদিও জোট নেতাদের মতে কোন সঙ্কট নেই। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানিয়েছেন, ১৪ দলে কোন সঙ্কট নেই। ঈদের পর বিরোধী জোট আন্দোলন করলে ১৪ দল তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। উৎসঃ   মানব জমিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ