• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা

Protaronaসিসিনিউজ: গোলাপগঞ্জ উপজেলার লন্ডন প্রবাসী এক যুবকের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তার স্ত্রী এখন অন্য এক যুবককে বিয়ে করেছেন। নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ নিজ স্ত্রী আত্মসাৎ করে প্রতারণা করায় স্বামী এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। বার বার বিচার সালিশ করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। যারাই বিচারের উদ্যোগ নিয়েছেন তারাই শেষ পর্যন্ত চতুর স্ত্রীর কব্জায় পড়ে ম্যানেজ হয়েছেন বলে ঐ যুবকের অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা তীরবর্তী অঞ্চল আছিরগঞ্জের আমকোনা ও বিয়ানীবাজার উপজেলার পৌর এলাকার শোপাটিকর গ্রামে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমকোনা মোকামবাড়ীর হাজী আকদ্দছ আলীর পুত্র সেলিম আহমদ সেবুল (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে নাগরিকত্ব না পেলেও ভাল চাকরির সুবাদে প্রতি মাসে মোটা অংকের বেতন পেতেন। তার এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন বিয়ানীবাজার উপজেলার পৌর এলাকার নয়া গ্রাম শোপাটিকরের নুর উদ্দিনের কন্যা রুজি বেগম (২৪) বিয়ে করতে পাত্র খুঁজছেন। তিনি কালবিলম্ব না করে ওই আত্মীয়ের মাধ্যমে রুজি সম্পর্কে জানতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে রুজিকে তার পছন্দ হয়। একপর্যায়ে সেবুলের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে রুজির পিতা-মাতাও সম্মতি প্রকাশ করেন। সেবুল লন্ডন বসবাস করলেও রুজির সঙ্গে টেলিফোনে ২০০৯ সালের ১৩ই জুলাই ৫ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে সম্পন্ন করেন। বর ও কনেপক্ষের প্রায় দু’শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন এ বিয়েতে। স্বামী উপস্থিত না থাকলে রুজি শ্বশুর-শাশুড়িকে পা ছুয়ে সালাম করে দোয়াও কামনা করেন। সেবুল ব্রিটিশ নাগরিকত্ব না পাওয়ায় স্ত্রীর কাছে আসতে পারেননি। এ সময় স্ত্রী রুজি স্বামীকে বোঝাতে চেষ্টা করেন লন্ডনে অস্থায়ীভাবে থেকে লাভ হবে না, সেখানকার উপার্জিত অর্থ তার কাছে প্রেরণ করলে রুজির ভাইদের মাধ্যমে সে বিভিন্ন ব্যবসায় তা বিনিয়োগ করবে। যদি কোন দিন সেবুল দেশে ফিরে আসেন তবে এ ব্যবসাই হবে তার একমাত্র ভরসা। স্ত্রীর এসব আবেদনময়ী কথা গুরুত্ব সহকারে সেবুল গ্রহণ করে লাখ লাখ টাকা স্ত্রীর নামে দেশে পাঠাতে শুরু করেন। ডাচ বাংলা ব্যাংকসহ বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকাগুলো উত্তোলন করে রুজি বেশ ক’টি সিএনজি (অটোরিকশা) ক্রয় করে চালকদের হাতে তুলে দেন। স্ত্রী দেশে কি করছেন না করছেন সেবুল তা কখনও জানতে চাননি। স্ত্রীর প্রতি এতোই তিনি আস্থাশীল ছিলেন যে, সে টেলিফোনে যা বলত সেবুল তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতেন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক হারে শিক্ষার্থীরা সহজে ভিসা নিয়ে লন্ডনে পড়তে গেলে সেবুলও রুজিকে স্টুডেন্ট ভিসায় সেখানে নিতে চেয়েছিলেন। রুজির এসএসসি পাস সার্টিফিকেট না থাকায় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেননি। পরবর্তীতে সেবুল প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে রুজিকে ইটালি যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ সময় সে অন্য একটি নাম দিয়ে ইতালিতে গিয়ে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান নিলে সেবুল তাকে সেখানকার বৈধতা লাভের জন্য আরও ১৫ লাখ টাকা দেন। একপর্যায়ে রুজি ইটালির নাগরিকত্ব লাভ করলে সেবুলকে কিছু না বলেই দেশে চলে আসেন। রুজি সেবুলের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে ফেলেন। সেবুল তার সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির কারণ জানতে চাইলে রুজি টেলিফোনে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। গত বছরের ১৪ই ডিসেম্বর রুজি সেবুলকে তালাক প্রদান করেন। শুধু তালাক প্রদান করে ক্ষান্ত হননি, গত ৪ঠা জুলাই গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোয়াসপুর গ্রামের মনোহর আলীর পুত্র আইনুল ইসলাম শাপলুকে বিয়ে করেছেন।
এদিকে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে জানা যায়, রুজি বিভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে একাধিক পাসপোর্ট করেছে। এ ব্যাপারে জানার জন্য তার সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে রুজির বর্তমান স্বামী আয়নুল ইসলাম শাপলুর মোবাইল ফোনে (০১৭৩৭২০৫৪৯৯) নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে সেবুলের নিকটাত্মীয় বাদেপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহিবুর রহমান জানান, আত্মসাৎকৃত টাকাগুলো উদ্ধারে সালিশ হিসেবে তিনি বার বার বৈঠকে বসেছিলেন। রুজির পক্ষের লোকজনের ছলছাতুরিতে কোন সুরাহা হয়নি। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, রুজি সেবুলের সঙ্গে বিয়ের আসর সাজিয়ে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে যে প্রতারণা করেছে, তা সিনেমাকেও হার মানাবে। সেবুলের নিকটাত্মীয় কর্তৃক লন্ডনের বিভিন্ন মানি চেঞ্জারের রসিদ অনুযায়ী দেখা যায়, সেবুল বিগত দিনে রুজিকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ইটালিতে যাওয়া ও সেখানে বৈধ করতে আরও ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ