• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কারাগারে যেমন আছেন জামাত নেতারা

Jamatসিসিনিউজ: দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক আছেন জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। কেউ ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে আবার কেউ রায়ের অপেক্ষায় ঈদ পার করেছেন কারাগারে। কেমন কেটেছে তাদের এবারের ঈদ?
জামায়াত সূত্রে জানা যায়, দলের শীর্ষ নেতারা কারাগারে থাকলেও এবারের ঈদ ভালো কেটেছে তাদের। কারণ ঈদের আগে যে অবস্থা ছিল এখনো তা বিদ্যমান আছে। কোনো পার্থক্য নেই। বেশিরভাগ নেতাই কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। ঈদের দিন পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। নতুন পোশাকের সঙ্গে ভালো খাবারও দিয়েছেন। তবে সবকিছু তারা অনুমতি নিয়েই করেছেন ।
মতিউর রহমানের ছেলে নাজিব মোমেন জানান, আগেই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই সুবাদে ঈদের দিন কারাগারে দেখা করেছেন। সে সময় খাবারের সঙ্গে ঈদের কিছু নতুন কাপড়চোপড়ও দিয়েছেন। তার স্বাস্থ্য বর্তমানে অনেক ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম মুজিবুর রহমান তাকে ফাঁসির দণ্ড দেন। ফাঁসির এই দণ্ড নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর-১ কারাগারের কনডেম সেলে এবারের ঈদ করেছেন মতিউর রহমান নিজামী। তা ছাড়া নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। যেকোনো দিন নিজামীর রায় হতে পারে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির দণ্ড নিয়ে কারাগারে ঈদ করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর-১ কারাগারে রয়েছেন।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদীর দায়ের করা আপিল শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তার সঙ্গেও পরিবারের সদস্যরা অনুমতি নিয়ে দেখা করেছেন। সাঈদীর ছেলে মাসুদকে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কাশিমপুর-২ কারাগারের কনডেম সেলে এবারের ঈদ করেছেন আরেক জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। তার সঙ্গে দেখা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। আপিল বিভাগে ফাঁসির দণ্ডের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে। সেটির এখন শুনানি চলছে। ২০১১ সালের ১৩ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হন জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
এদিকে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কারাগারের কনডেম সেলে এবারের ঈদ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, অনেক দিন মুজাহিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেননি। ঈদের আগে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হয়েছে। ঈদের নতুন কাপড়চোপড় দিয়েছেন। কিন্তু কোনো খাবার দেওয়ার অনুমতি মেলেনি।
গত বছরের ১৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ২০১০ সালের ২৯ জুন তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রাক্তন এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ ১২টি মামলা রয়েছে।
আর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি আছেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তার বাসা রংপুরের বদরগঞ্জে হওয়ায় কেউ দেখা করতে আসেননি। তবে কারাগারে থাকা সহ-নেতাদের সুবাদে তিনিও কিছু-না-কিছু পেয়েছেন।
কাশিমপুর-১ কারাগারে আটক আছেন এ দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দিগন্ত মিডিয়ার চেয়ারম্যান কাসেম আলীর পক্ষ থেকে জানা যায়, পরিবারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন তিনি। প্রায় সময়ই তাকে দেখতে যান পরিবারের সবাই। কারাগারের নিরাপত্তারক্ষীদের কিছু টিপস দিয়েই বিভিন্ন খবর আদান-প্রদান করেন।
একই ধরনের মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবারের ঈদ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহান। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে।
অপরদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ে ৯০ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাপ্রকোষ্ঠে ঈদ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন আমির গোলাম আযম। এবারের ঈদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে রয়েছেন তিনি। গত বছরের ১৫ জুলাই গোলাম আযমকে ওই দণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।
রাইজিংবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ