কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের পল্লীতে বুধবার রাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক মাদ্রাসা ছাত্রী। ধর্ষিতা কিশোরীকে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ওই রাতেই তাকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র মতে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক মোফছির আলীর ১৩ বছরের কন্যা আদুরী (ছদ্মনাম)। কিশোরীর বাবা মোফছির ও মা নার্গিস জানায়, গত বুধবার বিকালে মেয়েকে বাড়িতে রেখে তারা শ্বশুড়বাড়ী বেড়াতে যান। ওইদিন রাত ৮টার দিকে আদুরী তার চাচা সিরাজুলের বাড়ী থেকে নিজ বাড়ীতে ফেরার সময় নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের সহায়তায় গ্রামবাসী নিখোঁজের প্রায় ৫ ঘন্টা পর বাড়ীর অদুরে একটি বাঁশঝাড় থেকে আদুরীকে অজ্ঞান, রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই মেয়েটিকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আজ শুক্রবার হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে মেয়েটি পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের জানায়, সে যখন তার চাচা সিরাজুলের বাড়ী থেকে ফিরছিল সে সময় একই গ্রামের ট্রাক চালক সাইফুলের ছেলে রাব্বী (২০), রফিকুল ইসলামের ছেলে জাকীনুর (২২) ও নজমুদ্দিনের ছেলে জাহিদুল (২৫) জোড় পূর্বক মুখ হাত পা বেধে গ্রামের অদুরে একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। পরে তারা একে একে তিন জন তাকে ধর্ষন করে। এরপর তার জ্ঞান হারিয়ে গেলে সে আর কিছু বলতে পারেনা। এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে ধর্ষনকারী তিন যুবকের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি করেছে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং ভিকটিমের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামী ধরতে ব্যাপক অভিযান চলছে।