একরামুল হক বেলাল, পার্বতীপুর: শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে নিজেই অপহরনের নাটক সাজিয়ে থানা পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার আজাদ শালবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ওরফে বুলু মাষ্টার । প্রধান শিক্ষকের অপহরনের ঘটনায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। বুধবার রাত দেড়টার দিকে পার্বতীপুর থানা পুলিশের হাতে একটি মাইক্রোবাসসহ (ঢাকা মেট্র-ছ-১১-১২২৩) অপহরনকারী ময়নুল হাজী, তোফাজ্জল, বাসেদ, মোসাদ্দেক ও মাইক্রো চালক রফিকুল ইসলাম ধরা পড়লে অপহরন নাটকের ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
জানা যায়, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার আজাদ শালবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কথা ছিল রংপুর জেলা স্কুলে। বিদ্যালয়ের সভাপতি সামসুল হক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করতে চাইলে বেকায়দায় পড়েন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাশেম। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার মনোনিত প্রার্থী পরীক্ষায় টিকবে কিনা এনিয়ে শংকিত হয়ে পড়েন। পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য পরিকল্পনা মতো প্রধান শিক্ষককে তার অনুসারী শালবাড়ী খিয়ার পাড়া গ্রামের হাজী ময়নুল বুধবার রাত ১১টার দিকে রামনাথপুর বাংলার হাট থেকে মাইক্রোবাসে করে অপহরন করে নিয়ে যায়। অপহরনের বিষয়টি তাৎক্ষনাত এলাকায় পাশে ছড়িয়ে পড়ে। অপহরনে ব্যবহৃত মাইক্রোটি পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুরবাজার এলাকায় যুবকরা আটক করে। পরে পার্বতীপুর টহল পুলিশেকে খবর দিলে এসময় অপহৃত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ও অপহরনকারী ময়নুল হাজি পালিয়ে যায়। পুলিশ মাইক্রোবাসে থাকা তোফাজ্জল, বাসেদ, মোসাদ্দেক ও মাইক্রো চালককে গ্রেফতার করে নিয়ে থানায় আসলে সাজানো নাটকের ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরে বিকেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ওরফে বুলু মাষ্টার ও ময়নুল হাজীকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামসুল আলম বলেন, নিয়োগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবিধা করতে পারবে না বিধায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে অপহরনের নাটক সাজিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহিদুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রধান শিক্ষকের অপহরনের বিষয়টি অবগত করায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে রহস্যজনক কারনে পার্বতীপুর মডেল থানা থেকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ অপহরনকারীদের বৃহস্পতিবার সন্ধায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।