স্বাস্থ্য ডেস্ক: যেকোনো রোগ প্রতিষেধকের জন্য যখনি আপনি ডাক্তারের সরণাপন্ন হন, তখনি আপনাকে দেয়া হয় অ্যান্টিবায়োটিক। জন্ম থেকে শুরু করে মানুষের শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। আর এ লাড়াই করতে গিয়ে মানুষ দিনকে দিন নিচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু আপনি জানেন অ্যান্টিবায়টিক কি? এর কাজ কি?
অ্যান্টিবায়োটিক:
এটা মূলত ভাইরাল ও ফ্লু জ্বর ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং পরজীবীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে থাকে। ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের জন্য ডাক্তাররা অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করার জন্য জোর দিয়ে থাকেন।
যে সব অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের নখ-দর্পনে:
নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। প্রধান অ্যান্টিবায়োটিক হল:
• পেনিসিলিনস্। যেমন- পেনিসিলিন-ভি, ফ্লুক্লোক্সাসিলিন ও এ্যামোক্সিসিলিন।
• সেফালোস্ফোরিনস্। যেমন- সেফাক্লোর,সেফাড্রক্সিল ও সেফালেক্সিন।
• টেট্রাসাইক্লিনস্। যেমন- টেট্রাসাইক্লিন,ডক্সিসাইক্লিন ও মাইনোসাইক্লিন।
• এ্যামিনোগ্লাইকোসাইডস্। যেমন- জেন্টামাইসিন,এ্যামিকাসিন ও টোব্রামাইসিন।
• ম্যাক্রোলিডস্। যেমন- এরিথ্রোমাইসিন,এজিথ্রোমাইসিন ও ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন।
• ক্লিন্ডামাইসিন।
• সালফোনামাইডস্ ও ট্রাইমেথোপ্রিম। যেমন- কো-ট্রাইমোক্সাজল।
• মেট্রোনিডাজল ও টাইনিডাজল।
• কুইনোলোনস্। যেমন- সিপ্রোফ্লোক্সাসিন,লিভোফ্লোক্সাসিন ও নরফ্লোক্সাসিন।
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কী:
অ্যান্টিবায়োটিকের প্রধান কাজ হচ্ছে কোষপ্রাচীরে ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী ধ্বংস করে দেহে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম রোধ করা যাতে ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংস নিশ্চিত হয়।
নির্ধারিত মাত্রার ওষুধ না খেলে এগুলো আবার প্রাণঘাতি রূপে দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রমন রোধের জন্য ওষুধের কোর্স শেষ করতে হবে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসমূহ:
অ্যান্টিবায়োটিকের সাধারন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসমূহ হল- বমিভাব, বমি, পেট খারাপ বা আলগা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। কিছু অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি দেখা দেয়।
এছাড়াও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়।
যে সকল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসার প্রয়োজন:
• ক্লোসট্রিডিয়ামের সংক্রমণে পাকস্থলির সংকোচন ও পেট আলগা হয়ে যাওয়া
• অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ায় ত্বকে লাল লাল ফুসকুড়ি ওঠা, মুখ বা জিহ্বা ফোলা, ঠোট ফোলা, বমিভাব, শ্বাস কষ্ট হওয়া।
• যোনিতে চুলকানি বা স্রাব হলে।
• মারাত্মক বমি হলে।
• জিহ্বাতে সাদা প্যাচ দেখা দিলে।
অন্য ওষুধ চলাকালে অ্যান্টিবায়োটিক নিলে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় ফলে চিকিৎসা ব্যর্থ হয়। একারণে আগে কোনো ওষুধ নিয়ে থাকলে আপনার ডাক্তারকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরুর আগেই জানান।