আগামী দিনে রাজপথে সরকার পতনের আন্দোলন পরিচালনা করতে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি দলের প্রতিটি অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে রাজপথের আন্দোলনে সফল হতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। আর এ জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ইউনিট পর্যায়ে ২০ দলীয় জোটের ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য নামে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে দলটি।
জানা যায়, সরকার বিরোধী আন্দোলন সফল করতে সাংগঠনিকভাবে কঠোর হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাই বিগত দিনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে কীভাবে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠনের কথা বলেছেন তিনি।
দলের একটি নির্ভরশীল সূত্র শীর্ষ নিউজকে জানায়, খালেদা জিয়া দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘এবার আন্দোলনে কেন্দ্রের নির্দেশের অজুহাতের কথা যেমন চলবে না তেমনি আত্মগোপন থাকাও যাবে না। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে এবং বিজয় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে নিজেদের উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে হবে।’
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, ‘যেখানেই আঘাত আসবে সেখানেই গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ক্ষমতাসীনদের দ্বারা দলের নেতাকর্মীরা যেখানেই নির্যাতিত হবেন সংশ্লিষ্ট শাখার নেতাকর্মীরা সেখানেই কর্মসূচি দেবেন এবং সরকারের অত্যাচারের তাৎক্ষণিক জবাব দেবেন।’
এদিকে মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেযারপারসন খালেদা জিয়া দলের সকল অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া বলেছেন, সামনে আমাদের সকলের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কাজেই এ সময়ে নিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব পুষে রাখলে চলবে না। সবাইকে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে হবে।
এ সময় খালেদা জিয়া ঢাকা মহানগর বিএনপি, জাসাস, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল, মৎসজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ওলামা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুব দল, মহিলা দল, ছাত্র দলের মধ্যে যে সকল কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তার শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাই মনে করেন, আন্দোলন সংগ্রামকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হলে সেই আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রদের সম্পৃক্ত করতেই হবে। কেননা এ পর্যন্ত যতগুলো আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে সবগুলো আন্দোলনেই ছাত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
এদিকে বিএনপির দফতর সূত্রে জানা যায়, ছাত্রঐক্য গড়ে তুলতে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ বাড়াতে দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এই নির্দেশের পর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তথ্য ও যোগাযোগ সেল গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আট ধরনের তথ্য চেয়ে দলের মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে একটি চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জানা যায়, এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ আব্দুর রহমান আল গণি এবং তারিকুল আলম তেনজিং এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ২০ দলীয় জোটের একটি সূত্র জানায়, আন্দোলনে সফলতা পেতে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের বিকল্প নেই। কেননা অধিকার আদায়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্ররাই পারে তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে। কাজেই জোট নেত্রীর এমন সিদ্ধান্ত সময় উপযোগী।
জানা যায়, সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য থাকলে কোনো ইউনিট বা জোটের কোনো নেতা সরকার বা ক্ষতাসীন দল দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হলে অন্যরা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এতে করে কেন্দ্রীয় নির্দেশ ও নির্দেশনার প্রয়োজন পড়ে না।
তবে গুলশান কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গড়ে তুলতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা বাছাই করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার টার্গেট ছিল যোগ্য অবিবাহিতদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করবেন। কিন্তু ছাত্রদলের অবিবাহিত নেতাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেখে বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে কমিটি গঠনে কিছুটা সময় নিচ্ছেন তিনি। উৎসঃ শীর্ষ নিউজ