রংপুর: প্রাইম ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য এসএমজি গ্রুপের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চল থেকে জামানতের নামে দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। সাত দিনের মধ্যে এই টাকা ফেরত দেয়া না হলে রংপুর অঞ্চলে প্রাইম ব্যাংকের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।
রোববার রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে প্রতারিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা মানববন্ধনে এই হুমকি দেন। মহানগর রিচার্জ ও ক্যাশলোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর আলী আকরাম হোসেন চমনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ জুননুন, সেক্রেটারী রেজাউল ইসলাম মিলন, জেলা দোকান মালিক সমিতির আহবায়ক আলতাব হোসেন, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, রিচার্জ ও ক্যাশলোড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. আবুল ফজল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান ফেরদৌস রাসেল, এসএমজির স্থানীয় প্রতারিত প্রতিনিধি বেলাল হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এসএমজি গ্রুপ ও প্রাইম ব্যাংক দুই বছর আগে পত্রিকায় প্রাইম ব্যাংকের লোগো ব্যবহার করে এসএমজি গ্রুপ লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেন। এই বিজ্ঞাপন দেখেই অন্যদের মতো রংপুরেও চাকুরীর জন্য অনেকেই আবেদন করেন। সেখান থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে রশিদ স্লিপ দিয়ে মোটা অংকের টাকা জামানত নিয়ে জিএসআর, টিএসআর এবং সিএসআর পদে প্রায় ২৩৪ জনকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে রংপুরে নিয়োগ দেন। যাদের বেতন ১৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করেও দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিয়োগের পর থেকে নানা অযুহাত দেখিয়ে বেতনভাতার বিষয়ে কালক্ষেপন করে। শুধু চাকরির জামানতের অজুহাতেই রংপুর থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা । এই প্রতারণার কারণে অনেকই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এখন প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন এসএমজি গ্রুপের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে এসএমজি গ্রুপের তত্ত্বাবধানে প্রাইম ব্যাংকের ইজিক্যাশ মোবাইল ব্যাংকি ছিলো। কিন্তু এখন এসএমজি গ্রুপ লাপাত্তা আর অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংক বলছে এসএমজি গ্রুপের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এটা মগের মুল্লুকের মতো অবস্থা।
এসময় বক্তারা ৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের জামানতের টাকা ফেরত ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেতনের টাকা না দিলে রংপুরে প্রাইম ব্যাংকের সকল কার্যক্রম বন্ধের হুশিয়ারি দেন।
এ ব্যাপারে রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসএমজি গ্রুপের আর এস এম গোলাম কিবরিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোনো কথা না বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে পক্ষ থেকে পরিদর্শন চালানো হয়। এতে বিষয়টি সত্যতা পাওয়া গেলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ডিলার ও এজেন্ট নিয়োগের নামে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের সংগৃহীত ২৫ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি প্রাইম ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে।