কৃষি ডেস্ক: স্বল্পমেয়াদি ও অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র আকৃতির সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গত আট বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা করে এটি উদ্ভাবন করা হয়।
গবেষকরা জানান, ‘বিইউ সয়াবিন-১’ নামে নতুন উদ্ভাবিত জাতটি অন্য জাতগুলোর চেয়ে ১৫ দিন আগে ফলন দেবে। সেই সঙ্গে আকারে অন্য জাতগুলোর চেয়ে অর্ধেক হওয়ায় এটি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবদুল করিমের নেতৃত্বে একদল গবেষক ২০০৫ সাল থেকে এ গবেষণা চালিয়ে বিইউ সয়াবিন-১ উদ্ভাবন করেন।
ড. এম আবদুল করিম সকালের খবরকে জানান, এ জাতের সয়াবিনে প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৩৬ ভাগ, যেখানে গরুর মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ২৭-৩০ ভাগ। পাশাপাশি হাঁস-মুরগির খামারে উচ্চ পুষ্টিমান খাদ্য হিসেবেও এর ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যান্য জাতের সয়াবিনের তুলনায় এটি অন্তত ১৫ দিন আগে ফলন দেবে। অন্য জাত যেখানে আকারে ৮০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, সেখানে নতুন জাতটির আকার ৩৫ থেকে ৪২ সেন্টিমিটার। উচ্চতা কম হওয়ায় সাথী ফসল হিসেবে ভুট্টসহ অন্য ফসলের চাষাবাদ করা যাবে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের ১০ লাখ হেক্টর চর অঞ্চলের আমন কাটার পর সয়াবিনের চাষাবাদ সম্প্রসারণে এই জাতটি ভূমিকা রাখতে পারে। জাতটি ইতোমধ্যে নোয়াখালী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও কুড়িগ্রামের আবাদ করে ফসল হয়েছে।
স্বাধীনতার পর দেশের নোয়াখালীর চর অঞ্চলে একটি এনজিওর ব্যবস্থাপনায় প্রথম সয়াবিনের চাষাবাদ শুরু হয়। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সয়াবিনের চাষাবাদ হয়। সারাদেশে ৯০ হাজার হেক্টরে জমিতে প্রায় দেড় লাখ টন সয়াবিন উৎপাদিত হয়। উৎস: সকালের খবর