একরামুল হক বেলাল, সিসি নিউজ: পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া খনি হতে ভুয়া জমা স্লিপ ও জাল ব্যাংক সার্টিফিকেট দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৩০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যাওয়ায় ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার খনির জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক একেএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯ কার্য দিবসে এক শত পাতারও বেশী এ তদন্ত প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতারকচক্রটিকে চিহ্নিত সহ খনির কয়েকজন কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছে বলে খনি সুত্রে জানা গেছে।
এদিকে বিপুল পরিমান কয়লা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুজ্জামান ও কোম্পানী সচিব জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাশেম প্রধানিয়া খনি এলাকায় না আসায় তাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
খনির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকনেতা জানান-দীর্ঘদিন থেকে খনির কয়েকজন কর্মকর্তা কয়লা কেনাবেচার সাথে জড়িত। তাদের যোগসাজসেই প্রতারক চক্রটি এত বিপুল পরিমান কয়লা নিয়ে গেছে। ৩শ মেট্রিক টন কয়লা পাচারের ঘটনাটি গত জুন মাসে ধরা পড়ে। প্রথমে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় খনি কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।
তারা আরও বলেন, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) আমিনুজ্জামান ও কোম্পানী সচিব জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাশেম প্রধানিয়া বিষয়টি সেভাবে আমলে নেননি এবং এখন পর্যন্ত তারা খনি এলাকায়ও আসেননি। ঢাকায় পেট্রোসেন্টারে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির লিয়াজোঁ অফিসে বসে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েই তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুজ্জামানের মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মতামত পাওয়া যায়নি।
খনির জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) ও তদন্ত কমিটির আহবায়ক একেএম সিরাজুল ইসলাম জানান- ব্যবস্থাপনা পরিচালক দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার হয়েছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কথা স্বীকার করলেও তিনি তাদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উলে¬খ্য, গত ১৫ মে ঢাকা সাভারের জিরানী বাজারের রবিন ট্রের্ডাস নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তিনশ মেট্রিক টন কয়লা ত্রুয় করার জন্য বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অনুকুলে অগ্রনী ব্যাংক লিমিটেড ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) শাখায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা (প্রতি টন ৯ হাজার ২০০ টাকা) জমা দানের ভুয়া জমা ¯ি¬প ও জাল ব্যাংক সাটিফিকেট তৈরী করে। পরে সেই ভুয়া জমা ¯ি¬প ও জাল ব্যাংক সাটিফিকেটসহ কাগজপত্র কয়লা বিত্রুয় শাখার কম্পিউটার অপারেটর শাকিল আহাম্মেদের নিকট জমা দেয়। শাকিল আহাম্মেদ তড়িঘড়ি করে কম্পিউটারে রক্ষিত ব্যাংক ম্যানেজারের স্বাক্ষর যাছাই করে ওই দিনই ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ) গোপাল চন্দ্র সাহা’র নিকট উপস্থাপন করেল ডিজিএম গোপাল চন্দ্র সাহা ব্যাংক কাগজপত্র সঠিক আছে বলে মতামত দিয়ে ডেলিভারী অর্ডার প্রদানের জন্য জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর কাছে পাঠিয়ে দেন। জিএম আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী একই দিন ডেলিভারী অর্ডার প্রদান করেন। রবিন ট্রের্ডাস ডিও লেটারটি (ডেলিভারী অর্ডার পত্র) হাতে পেয়ে তা খনি মোড়ে অবস্থিত নুস আত ট্রের্ডাসের নিকট বিক্রি করে দেয়। পরে নুস আত ট্রের্ডাসের মালিক আরাফাত হোসেন ও তার ব্যবসায়ীক পাটনার আব্দুস ছামাদ মাষ্টার ওই ডিও লেটার দিয়ে ১৬ ও ১৭ মে সরকারী ছুটির দিনে ১৭ ট্রাকে করে তিনশ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যায়।
খনির আভ্যন্তরিন নিরিক্ষণে ব্যাংক হিসাবে গড়মিল ধরা পড়লে গত ২০ আগষ্ট খনির জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) একেএম সিরাজুল ইসলামকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন-জেনারেল ম্যানেজার(সারফেজঅপারেশন)এটিএম নুরুজ্জামান চৌধুরী ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম। এছাড়া, খনি কর্তৃপক্ষ গত ২৬ আগষ্ট বড়পুকুরিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বিষয়টি লিখিতভাবে জানায়।