সিসি নিউজ: গত কয়েক দিন পুর্বে ২ সপ্তাহের বন্যার রেশ কাটতে না কাটতে ভারী বর্ষন আর উজানের ঢলের কারনে ফের তিস্তা আবারো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল নুতন করে প্লাবিত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এর ফলে পানি ভাটি অঞ্চলে গিয়ে আরো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য মতে, গতকাল মঙ্গলবার রাত হতে আজ বুধবার পর্যন্ত তিস্তা অববাহিকার ডালিয়ায় ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া নীলফামারী জেলা সদরে ২০ মিলিমিটার, জলঢাকা উপজেলায় ৬৫ মিলিমিটার, ডোমার উপজেলায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল রতিফ ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, আগষ্ট মাসের দীর্ঘ ১৮ দিনের বন্যায় তিস্তার চর, দ্বীপচর ও তিস্তা সংলগ্ন গ্রামের ঘরবাড়ী তছনছ হয়ে যায়। বানের পানি নেমে যাওয়ায় বানভাসী মানুষজন নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরে নতুন ভাবে ঘর তৈরী করতে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। কাদামাটিতে ঘরের ভিটা নড়বড়ে। যা মেরামত করতে পারছেনা। ঠিক সে সময় আবার গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তায় ফের ঢল নেমে আসায় এসব পরিবারের উপর মরার উপর খাড়ার ঘা হিসাবে এসেছে। তারা কোন কুল কিনারা পাচ্ছেনা। এদিকে বুধবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা নদী সংলগ্ন কিছামত ছাতনাই, হাইম-চর, খড়িবাড়ী, ঝাড়শিংহের চর, ছোটখাতা, বানপাড়া, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, জলঢাকা উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী, গোলমুন্ডা, শৌলমারী ও কৈমারী চর গ্রামগুলো নুতন কওে প্লাবিত হয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জাান। এসব এলাকার প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বাড়িঘরে নতুন করে তিস্তার পানি ঢুকেছে। তিস্তা পাড়ের ঝাড়শিংহের চর গ্রামের হারুন (৪২) জানান, রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে তিস্তায়। তার উপর উজানের ঢলে ঘরবাড়ী থেকে বের হওয়া মুসকিল হয়ে পড়েছে। গ্রামের রাস্তাঘাট গুলো পানির নিচে নতুন করে তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সুত্র মতে, গত ১২ দিন তিস্তা বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। কিস্ত ৯ সেপ্টেম্বও মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে উজানের ঢল ফের বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা ১০ সেপ্টম্বর বুধবার সকাল ৬টা থেকে বিপদসীমার ৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত তিস্তা বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশসনের নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান দীর্ঘ বারো দিন পর তিস্তা আজ বুধবার সকাল থেকে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুপুর ১২টায় ২ সেন্টিমিটার পানি কমলেও এখন নুতন করে বাড়ছে। তিনি ধারনা করছেন উজানের ঢলে আরো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।