রংপুর: রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায় বৃহস্পতিবার জামায়াতের ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে শান্তিপূর্নভাবে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে চার জনকে গ্রেফতার করেছে।
হরতালের কারণে রংপুর মহানগরী থেকে কোন যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ভারী মাঝারী পরিবহন যাতায়াত করেনি। নগরীতে অটোরিকশা-রিকশা চলাচল করেছে। দুপুরের পর থেকে দোকানপাটও খুলেছে। এছাড়াও অফিস আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম।
এদিকে হরতাল উপলক্ষে নগরীর জাহাজ কোম্পানী মোড়, পায়রা চত্বর, মডার্ন মোড়, লালবাগ, মেডিকেল মোড়., টার্মিনাল, ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড, ট্রাক স্ট্যান্ড, স্টেশন, সাতমাথা, পার্কের মোড়, দর্শনা মোড়সহ বিভিন্ন স্পটে প্রচুর পরিমানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঝটিকা মিছিল করেছে। এসময় তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সাঈদীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে ঈদের আগেই।
এছাড়াও মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, গঙ্গাচড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীরা।
রংপুর গোয়েন্দা পুলিশের জেষ্ঠ্য উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, হরতালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রাতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জামায়াত শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল কাদের জিলানী জানান, নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। কেউ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।
লালমনিরহাট: জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতের সারা দেশজুড়ে ডাকা হরতাল লালমনিরহাটে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে।
হরতালের সমর্থনে লালমনিরহাটের কোথাও জামায়াত-শিবিরের কোনো মিছিল কিংবা পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় রুটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ যথারীতি খুলেছে। কোথাও কোনো প্রীতিকর খখবর পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় সাধারন লোকজনের গন্তব্যে চলাচল কম লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে হরতাল সম্পর্কে জানতে একাধিক জামায়াত নেতার সাথে যোগাযোগ করেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আদিবুল ইসলাম জানান, জেলার ৫ উপজেলায় পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম কাজ করছে। ব্যাপক নিরাপত্তা রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা মিছিল-মিটিংয়ের খবর পাওয়া য়ায়নি।
মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদন্ড প্রদান করলে জায়ামাতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের প্ররিপ্রেক্ষিতে আমৃত্যু কারাদন্ডাদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
নীলফামারী : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে জামায়াত আহুত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নীলফামারীতে ২৪ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে। হরতালের সমর্থনে জেলা শহর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা শহরে মিছিল মিটিং করছে হরতাল সমর্থকরা। ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করতে দেখা যায় হরতাল সমর্থকদের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়। জেলা ও উপজেলা শহরের জামায়াত কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মাঝে মাঝে শহরে সেনাবাহিনীর গাড়ি টহল দিচ্ছে। হরতালের কারণে জনমনে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে হরতালের সমর্থনে বৃহস্পতিবার সকালে মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াত। সকালে কুড়িগ্রাম-উলিপুর সড়কের যতিনের হাট এলাকায় শহর জামায়াত আমীর মো. সবুর খান ও শিবির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রোমানের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ইয়াছিল আলী সরকার, জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, শিবির সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম রোমান, শহর জামায়াতের আমির আব্দুস সবুর খান প্রমুখ।
এছাড়াও কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জামায়াত-শিবির। হরতালে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা শহরসহ ৯ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হচ্ছে।