রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর: বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমজোনের সর্ববৃহৎ রেল জংশন স্টেশন পার্বতীপুর স্টেশন বিল্ডিং সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই সবগুলো রুমের ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে। তাছাড়া, প্রথম শ্রেনীর বিশ্রামাগারের একটি ফ্যান ইতিমধ্যে পুড়ে গেছে। আগের সুপরিসর ভ্যান্টিলেটরের জায়গায় ছোট ছোট ভ্যান্টিলেটর করায় বাইরের আলো বাতাস প্রবেশ করতে না পারায় দ্রুত ঘর গরম হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবহেলা ও দূর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি ইস্টিমেট অনুযায়ী কাজ না হওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে স্টেশন মাস্টারের রুমসহ ১২টি অফিস রুমের সব ক’টিতে ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে। প্রথম শ্রেনীর বিশ্রামাগারের একটি ফ্যান পানি পড়ে পুড়ে যায়। ছাদ ঢালাইয়ে রডের মিলি মিটার কম, বালুর পরিমান অনুযায়ী (ফোর ইসটু ওয়ান) সিমেন্ট কম দেওয়া, ছাদের ঢালাইয়ের উচ্চতা (থিকনেস) কম, পাথরের সাইজ ছোট বড়, ভ্যান্টিলেটর ছোট করা অথবা না রাখা, টাইল্স ও সিলিং ফ্যান নিম্নমানের, পানি ব্যবহারের জন্য পুর্বের লোহার পাইপের পরিবর্তে নি¤œমানের প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগে ফুসে উঠতে শুরু করেছে রেল কর্মচারীসহ সাধারন মানুষ। পার্বতীপুর রেলওয়ের সিনিয়র সাব এ্যাসিষ্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসএসএই-ওয়ার্কস) তহিদুল ইসলাম জানান, পানি পড়ার বিষয়টি সত্য। তবে তিনি দাবী করেন, নানান প্রতিকুলতা ও চাঁদাবাজির মধ্যে এ কাজটি সমাপ্ত করা হয়েছে। ত্রুটিগুলো সারিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে বলে তিনি উলেক্ষ করেন। এব্যাপারে আজ শনিবার পার্বতীপুর রেল স্টেশনের এ্যারিয়া অপারেটিং ম্যানেজার শাহ আলম তালুকদার বলেন, সবেমাত্র ছাদ ঢালাই হলো। আর এতেই পানি পড়া শুরু করেছে। পানি পড়বে কেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট এমন প্রশ্ন তিনি নিজেই করবেন বলে উলেক্ষ করেন। আর যেহেতু পানি পড়ছে সেহেতু ছাদ ঢালাই কাজে শতভাগ অনিয়ম হয়েছে। এ,ই,এন,বলেন আর আই ও ডাবলু বলেন তারা কাজের সময় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। থাকলে এ অবস্থা হতো না। এর জন্য তারাও দায়ী বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানান, পার্বতীপুর রেলষ্টেশনের সংস্কার কজের মুল ঠিকাদার রাজশাহীর রামচন্দ্রপুর ঘোড়ামারার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম,এস, হোসেন এন্টারপ্রাইজ। তিনি চাঁদাবাজির কারনে জনৈক আরজু নামের এক ব্যক্তিকে সাব ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে রাজশাহীর জনৈক বাচ্চু নামের অপর এক ঠিকাদারকে সাব ঠিকাদারি দেওয়া হয়। কাজ শুরুর আগে সাব ঠিকাদার বাচ্চু কাজের পরিবেশ ফিরে এনে মুসাফিরখানা ও টিকিট বুকিং অফিসের কাজ সমাপ্ত করার পরে পুনরায় আরজু কাজটি বাচ্চুর কাছ থেকে ফেরত নিয়ে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেন। ইতিমধ্যে এ কাজের ফাইনাল বিল উত্তোলনের জন্য রেলওয়ের সংশ্লিট দপ্তরের কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সকল প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। ঠিকাদার আরজু’র কাছে জানতে চাইলে বলেন, পুরো প্লানে ভুল ছিল। ছাদ ঢালাইয়ে পাথর ব্যাবহার করায় পানি পড়ছে বলে তিনি উলেক্ষ করেন। এব্যাপারে রেলওয়ের পশ্চিমজোনের দু’কর্মকর্তা বলেন, ত্রুটি সারিয়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য,২০১৩ সালের ১৫ আগষ্ট পার্বতীপুর প্লাটফরমের মুল ভবনের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ কাজে ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯শ’ ৮০ টাকা ৯০ পয়সা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজের মেয়াদকাল শুরুর দিন থেকে ২১০ দিন। কাজের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এ স্টেশনে নি¤œমানের কাজ করা সাথে সংশ্লিষ্ঠ সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতন মহলের।