সিসি নিউজ: পরিচালনার অর্থের অভাব ও কর্তৃপক্ষহীনতায় তাদের সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।
বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাজধানী উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যা লয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেডের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশনস) ক্যাপ্টেন এম ইলিয়াস এ ঘোষণা দেন।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর পদত্যাগের এক দিনের মাথায় এই ঘোষণা দিল বেসরকারি বিমান সংস্থাটি। এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ মাহাতাবুর রহমান। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহিনুর আলম। তবে বুধবার পর্যপন্ত তারা কাজে যোগ দেননি।
ফলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাপ্টেন এম ইলিয়াস বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে এখনো আমাদের কারো যোগাযোগ হয়নি। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই।” তিনি আরো বলেন, “ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ডিরেক্টর প্রশাসন উইং কমান্ডার (অব.) ফেরদৌসকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলেও দায়িত্ব নেয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। ডিরেক্টর রেভিনিউ ও কোম্পানি সচিব গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খোরশেদ আলমও পদত্যাগ করেন।
ফ্লাইট বন্ধের কারণ হিসেবে ক্যাপ্টেন এম ইলিয়াস জানান, ফ্লাইট পরিচালনা করতে যে খরচ হয়, এই মুহূর্তে সেই খরচ নির্বাহের অর্থ ইউনাইটেডের নেই। তিনি বলেন, “ফুয়েল, ক্যাটারিং ও ফ্লাইট পরিচালনার অন্যান্য খরচ বাবদ কোনো অর্থ না থাকায় ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।” বুধবার তিনটি আন্তর্জাতিক রুট দোহা, মাসকাট ও কুয়ালালামপুরে ইউনাইটেডের নির্ধারিত ফ্লাইটও ঢাকা থেকে ওড়েনি বলে জানান তিনি।
কোম্পানি আইন অনুযায়ী দক্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পাওয়ার আশা করে ক্যাপ্টেন ইলিয়াস বলেন, “পদত্যাগী চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন তাসবিরকে ফিরিয়ে এনেও পরিস্থিতি সামলানো যেতে পারে।”
ফ্লাইট বন্ধ ঘোষিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন ইলিয়াস।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং আফতাব, ক্যাপ্টেন ওয়াহিদ, ডিরেক্টর প্রশাসন উইং কমান্ডার (অব.) ফেরদৌস, ডিরেক্টর কাস্টমার সার্ভিস ফরহাদ প্রমুখ।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ সাত বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কয়েকটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল। ২০০৫ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে বিমান পরিচালনা করার লাইসেন্স দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তার দুই বছর পর যাত্রী পরিবহন শুরু করে ইউনাইটেড।
বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কয়েক দফা সময় বেঁধে দেয় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে। তার পরও বকেয়া পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেয়া হয়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মোট পাওনার পরিমাণ ৮৪ কোটি টাকা।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমানবহরে রয়েছে মোট ১১টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে একটি ড্যাশ-৮, তিনটি এটিআর-৭২, পাঁচটি এমডি-৮৩ ও দুটি এয়ারবাস-৩১০।