• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

জাতিসংঘে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে ইসি

ECসিসি ডেস্ক: দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোকে ছাড়াই গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই করতে হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ঠেকাতে বর্জনকারীরা সর্বকালের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও ওই সময় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না বলেই দাবি করেছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। দেশ ও বিদেশে বিতর্কিত ও সরকারের আজ্ঞাবহ খ্যাতি পাওয়া ইসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের নির্বাচনকালীন ভূমিকা পরিষ্কার করতে জাতিসংঘে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সম্পূর্ণ ইংরেজিতে তৈরি এ প্রতিবেদনটিতে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসির তৈরি এ প্রতিবেদনে গত ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, সব দলকে নির্বাচনে আনতে ইসির সময়ক্ষেপণ, নিবন্ধিত দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান ইত্যাদি বিষয়ে ইসির ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে প্রতিষ্ঠানটি তার সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এছাড়া নির্বাচন বর্জনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা ঘটানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্যাপক সহিংসতা আর ধ্বংসযজ্ঞের ফলে প্রায় ৬০০ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে তারা বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া প্রাণহানি, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্বালাও পোড়াও ইত্যাদি বিষয়গুলো তুলে আনা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়ার ঘটনাগুলো আলাদা আলাদাভাবে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনের জন্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইংরেজিতে একটি প্রতিবেদন করা হচ্ছে। ওই নির্বাচন আয়োজনের আদ্যোপান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকছে। জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ ও গত ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ভোট হয় ১৪৭ আসনে। বাকি সব আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবাই নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪৭ আসনের ১৮ হাজার ২৬৭ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫৯৬ কেন্দ্রেই সহিংসতা হয়। ফলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে বাধ্য হয় কমিশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি আমলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৪৭ জন এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ জন এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ। আর দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর নামে ব্যাপক সহিংসতা ঘটায় নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ ভোটগ্রহণে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ১৭টি জেলায় ৩৫০ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা হতাহত হন। যাদের মধ্যে ৩১৮ জনকে ক্ষতিপূরণ দেয় ইসি। আহতদের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর ১০৮ জন, সশস্ত্র বাহিনীর ২২ জন ও বিজিবির ৫৫ সদস্যের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয় ৭ জন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী, আনসার, পুলিশ ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত জোটসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ১২টি দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। এতে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোট ছাড়াই প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

উৎসঃ   মানব কণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ