সিসি নিউজ : বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতায় আগুনে পুড়িয়ে দেয়া আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুতযান এক্সপ্রেসের ৪৪৪৯ নং যাত্রীবাহি বগিটি পুনঃনির্মাণ করা হলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ঈদ উপলক্ষে খাবারগাড়ি হিসাবে আন্তঃনগর ট্রেনে এটি সংযোজন করা হবে। মাত্র ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বগিটির নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ বিদেশ থেকে এ বগিটি আমদানি করতে সরকারের ব্যয় হতো প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এতে করে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে চার কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর আগেও একই ট্রেনের আগুনে পুড়ে যাওয়া ৩টি বগি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। ওই তিনটি বগি বর্তমানে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে চলাচল করছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস দিনাজপুর থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ওইদিন বিএনপি-জামায়াত জোটের জনসভা ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন মনছুর আলী স্টেশন এলাকায়। জনসভাস্থল ছেড়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে রেললাইনের ওপর অবস্থান করছিল। ট্রেন চালক বারবার হুইসেল বাজালেও আনমনা নেতাকর্মীরা রেললাইন থেকে সরছিল না। এমতাবস্থায় ট্রেনের ধাক্কায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনটি থামানো মাত্রই বিএনপি-জামায়াত জোটের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা যাত্রী ভর্তি ওই ট্রেনে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। নিমিষেই আগুনের লেলিহান শিখায় দ্রুতযান এক্সপ্রেসের ১১টি বগি ভস্মিভূত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় কংকালসার ট্রেনের এসব বগি মেরামতের উদ্দেশ্যে আনা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। এসব বগি এতদিন কারখানার পরিত্যক্ত ইয়ার্ডে ফেলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটে রেলওয়ে বগি মেরামতের কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছিল। এ অবস্থায় আন্তঃনগর মিটার গেজ রেলপথে যাত্রীবাহি বগি সংকট দেখা দিলে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে বগি মেরামত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক পুরাতন মজুদ মালামাল ব্যবহার এবং নতুন মালামাল ক্রয়ের জন্য কিছু বাড়তি অর্থ চাওয়া হয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষ বগি সংকট কাটাতে দ্রুত অর্থের বরাদ্দও দেন। সিদ্ধান্ত হয় পুড়ে যাওয়া ১১টি বগির মধ্যে রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক কর্মচারিরা পুনঃনির্মাণ করবে ৫টি বগি। অবশিষ্ট ৬টি বগি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রকল্পের অধীনে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক কর্মচারিরা চারটি বগির পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ করেছে। নির্মিত তিনটি বগি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে সংযোজন করা হয়েছে। যা রেলপথের বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।
জানতে চাইলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কস ম্যানেজার মুহম্মদ কুদরত-ই-খুদা জানান, বিভাগীয় তত্তাবধায়ক নূর আহমেদ হোসেন এবং শ্রমিক কর্মচারিদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতায় এ অসম্ভব কাজ করা সম্ভব হয়েছে। তার মতে, প্রয়োজনীয় জনবল, পর্যাপ্ত কাঁচামালের সরবরাহ এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে মেরামত কাজের বাজেট বাড়ানো হলে উন্নত বিশ্বের আদলেই সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ট্রেনের বগি ও ওয়াগন নির্মাণ করা সম্ভব।