• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

যশোরে লতিফের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে পুলিশের গুলি

image_100596_0যশোর: পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে যশোরে যুবদল, মহিলা দলনেত্রী এবং পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজন আহত হয়েছেন।

এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিযে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

পুলিশ ৭১ টিভির ক্যামেরা ভাঙচুর করে। ঘটনার সময় যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহতরা হলেন যশোর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি সোনালী বেগম, পুলিশ কনস্টেবল মতিউর রহমান, উপশহর সি ব্লক এলাকার যুবদলকর্মী কামাল হোসেন এবং পুলেরহাট এলাকার রঞ্জু নামে এক যুবক।

পুলিশের লাঠিচার্জে আহত সাংবাদিকরা হলেন প্রেস ক্লাব যশোরের সহ-সভাপতি এসএম হাবিবুল্লাহ হাবিব, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যশোর করসপনডেন্ট এসএম সোহেল, চ্যানেল আইয়ের যশোর প্রতিনিধি আকরামুজ্জামান এবং ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি এসএম ফরহাদ।

শহরের মুজিব সড়কে প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ২০ দলীয় জোট কর্মসূচি পালন করতে এলে এ ঘটনা ঘটে।

মহানবী (স.) ও ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে ডাক ও টেলিযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী কটুক্তি করায় তার শাস্তির দাবিতে জেলা ২০ দলীয় জোট মানববন্ধন কর্মসূচি ডেকেছিল। পুলিশি অ্যাকশনে এ কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক ও পথচারীরা জানান, বিকেল ৪টার ঠিক আগে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মুজিব সড়কে প্রেস ক্লাবের গেটের সামনে আসতে থাকেন। ৪টার আগেই পুলিশ রাস্তা থেকে ধাওয়া করে প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে ধরে ভ্যানে ওঠায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কর্মী সাব্বির হোসেন ও মুস্তাইন বিল্লাহকে।

এর কিছুক্ষণ পর রাস্তা থেকে আটক করা হয় ওলামা দলের সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেনকে। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নগর সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুসহ ২০ দলের নেতারা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা ওলামা দল নেতাকর্মীদের আটকের প্রতিবাদ করেন। প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে মানুষকে আটক করায় উপস্থিত সাংবাদিক নেতারাও এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি ইনামুল হকের সঙ্গে রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের বাদানুবাদ হয়।

এ পরিস্থিতিতে পূর্বনির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ব্যাপারে বিএনপি নেতারা দৃঢ় থাকেন। পুলিশও যেকোনো মূল্যে কর্মসূচি ঠেকিয়ে দিতে তৎপর হন।

একপর্যায়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ দলের কয়েক শত নেতাকর্মী প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। ২০ দল নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে যান। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদসহ আটজনকে আটক করে পুলিশ। আটক অন্যরা হলেন জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন, ঘোপ সেন্ট্রাল রোড জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন সাব্বির হোসেন ও ব্যবসায়ী মাসুম হোসেন।

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২০ দলের কর্মীরা রাস্তার ওপর বসে পড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পরে কাঁদানে গ্যাস এবং কমপক্ষে ২০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলির কারণে এলাকা ফাঁকা হয়ে গেলে রাস্তায় থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ ধাওয়া করে। পরে মুজিব সড়কের পাশে খন্দকার ট্রেডার্সে ঢুকে পুলিশ কাছ থেকে কামাল নামে এক যুবকের বুকে গুলি করে। আহত কামাল মুজিব সড়কে ওই দোকানের কর্মচারী ও উপশহর সি ব্লকের বাসিন্দা। গোলমাল দেখে তিনি দোকানের পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন দাবি করেন, গুলিবিদ্ধ কামাল জাতীয়তাবাদী যুবদলের কর্মী।

ঘটনার সময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে কনস্টেবল মতিউর রহমান আহত হন। তার বাম হাতে গুলি লাগে। এ ছাড়া রঞ্জু ও সোনালি নামে যুবদল ও মহিলা দলের দুইজন নেতাকর্মীও গুলিবিদ্ধ হন। আহত চারজনকে যশোর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, কতিপয় ব্যক্তি মুজিব সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

বিএনপি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবুসহ কয়েকজনকে আটকের কথা স্বীকার করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক।

গ্রেফতারের আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সাংবাদিকদের জানান, ২০ দলীয় জোটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল শহরের চৌরাস্তায়। কিন্তু পুলিশ সেখানে মানববন্ধন করতে দেয়নি। এ কারণে বেলা ৪টার দিকে তারা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ আকস্মিক নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়।

নতুন বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ