রাজশাহী: এবার কোরবানী ঈদে রাজশাহীতে চামড়ার বাজার দখল করে নিয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। পাড়ায় পাড়ায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে ৭০ ভাগ চামড়াই কিনতে পারেননি প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।
প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছে।
রাজশাহী থেকে কোরবানী সময় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়ে থাকে। কোটি টাকার ওপরে চামড়া কেনাবেচার মৌসুমে প্রতিবারের মতো এবারও অসহায় হয়ে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। পাড়ায় পাড়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় মুল ব্যবসায়ীদের হতাশা হতে হয়। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারণে চামড়া কেনার জন্য পাড়ায় ঢুকতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান জানান, এবার ঈদে রাজশাহীতে ৭০ হাজারের বেশি গরু, ছাগল ও ভেড়া কুরবানী হয়েছে। তবে বেশির ভাগ পশুর চামড়া মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে।
চামড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন এবার চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কম নির্ধারণ করেছে। এ বছর লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ঢাকার বাইরে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর ছাগলের চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও মহিষের চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এ দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে চামড়া কিনছে। এতে চামড়া বিক্রির জন্য তারা মহল্লায় ঘুরেও ব্যর্থ হচ্ছে। অধিকাংশ চামড়া মৌসুমী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়ায় সীমান্তের বাইরে পাচারের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের হাতে চামড়া গেলে তার কোনো খোঁজ থাকে না। সেই সঙ্গে চামড়া পাচারের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।