রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর: এবার ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ট্রেনের টিকেটের জন্য হাহাকার পড়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল জংশনে। টিকেটের অভাবে গন্তব্যে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে যাত্রীদের। কাউন্টার খোলার আধা ঘন্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে সব ট্রেনের টিকেট। চাহিদার ১০ভাগ টিকেটও দিতে পারছেনা স্টেশন কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ১৬ ঘন্টা লাইনে দঁড়িয়ে থেকে টিকেট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে যাত্রীদের। পূর্বের তুলনায় পার্বতীপুর স্টেশনের জন্য আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া এবং ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ লাগানোর পরেও পার্বতীপুরের জন্য কোন আসন বরাদ্দ না রাখায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ অক্টবর পর্যন্ত ঢাকাগামী ৪টি ট্রেনের টিকেট ইতি মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। গন্তব্যের টিকেট না পাওয়ায় কাউন্টারের সামনে থেমে থেমে চরম উত্তেজনাও দেখা দেয় টিকেট নিতে আসা যাত্রীদের মধ্যে।
জানা যায়, পার্বতীপুর রেলজংশন থেকে ৮টি আন্তঃ নগর ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে চললেও ঢাকা অভিমুখে চলাচল করছে দ্রুতযান, একতা ও নীলসাগর ট্রেন সেই সাথে ঈদ উপলক্ষে একটি স্পেশাল ট্রেনেও দেওয়া হয়েছে। একতা ট্রেনে পূর্বে পার্বতীপুরের জন্য আসন বরদ্দ ছিল ৬১টি বর্তমানে তা কমিয়ে করা হয়েছে ৩৭টি। দ্রুতযান ট্রেনে ৬৯ আসনে বিপরীতে কমিয়ে আসন করা হয়েছে ৫১টি। এছাড়াও তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে একটি করে কোচ বরাদ্দ করা হলেও পার্বতীপুরের জন্য কোন আসন রাখা হয়নি।পার্বতীপুরে সেনানিবাস,বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি, তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র, লোকোমোটিভ কারখানা, মিশনারী হাসপাতাল,মৎস্য হ্যাচারী, রেলওয়ে তেল হেড ডিপো মিলে ৫টি কেপিআই এলাকা থাকার পরেও একতা দ্রুতযান ও নীলসাগর ট্রেনের পার্বতীপুরের জন্য বরাদ্দ থাকা ১৩টি এসি আসনের একটিও রাখা হয়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ভিআইপি যাত্রীরা। গত মঙ্গলবার উপজেলার হরিরামপুর থেকে টিকেট নিতে আসা যাত্রী কুদ্দুস আলী জানান, তিনি সোমবার রাত ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন টিকেটের জন্য। কিন্তুু মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে টিকেট কাউন্টারে সামনে পৌছাতে পারলেও ঢাকা যাওয়ার একটি টিকেটও সংগ্রহ করতে পারেনটি, চাঁন্দোয়াপাড়ার আজিজুল জানায় ৮জনের পিছনে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাইনি। তাদের অভিযোগ স্থানীয় কিছু চিহিৃত যুবক সন্ধ্যা থেকে টিকেট কাউন্টারের সামনে চেয়ার বেঞ্চ, টুল বসিয়ে লাইন দখল করে রাখে। তারা লাইনের প্রথম দিকে থাকায় তারাই শুধু টিকেট নিতে পেরেছেন। টিকেট না পাওয়ায় রোববার অফিস ধরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। নাম না প্রকাশের শর্তে একজন রেল কর্মচারী জানান, অনেক রেল কর্মচারীরাই টিকেট পাননি।বুকিং সহ কারিদের সহযোগীতায় কালোবাজারীরা নিজে এবং ২-৩শ টাকায় ভাড়া করে লোক এনে লাইনে রেখেছেন টিকেট কাটার জন্য। অনেকেই মহিলাদের পর্যন্ত ভাড়া করে লাইনে রাখছেন। একজনের টিকেট সর্বচ্চো ৪টি পর্যন্ত কিন্তু ২/১ জনকে টিকিট দেওয়ার পর বলে টিকিট নেই। এরা কোন দিনেও ঢাকা যায়না যাত্রী বেশে শুধুই টিকেট কাটেন। বাইরে একএকটি টিকেট দ্বিগুন দামে বিক্্ির করছেন। তিনি বলেন, প্রশাসন কাউন্টারের সামনে সিসি ক্যমেরা বসাতে পারলে চক্রটিকে সহজেই সনাক্ত করা যেত। বুকিং সহকারিদেও বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও রেলপ্রশাসন কোন বব্যস্তা নেইনি বরং বুকিং সহকারিরা বলে উপর মহল ঠিক ত সবেই ঠিক, যারা আমাদের বিরদ্ধে অভিযোগ করে তারাই কালোবাজারী।
পার্বতীপুর স্টেশন মাষ্টার শেখ আব্দুল জব্বার জানান, যাত্রী চাহিদার ১০ ভাগ টিকেটও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা পার্বতীপুর থেকে। রেল কর্তৃপক্ষ আসন কমিয়ে দেওয়া, অতিরিক্ত কোচের কোন আসন পার্বতীপুরকে না দেওয়া সেই সাথে ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ থাকা এসি আসন গুলো কেটে নেওয়ায় সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। তিনি বলেন, লাইনের সন্মখ ভাগের যাত্রীরা টিকেট পাচ্ছে বাকিরা ফিরে যাচ্ছে।